কূটনৈতিক চাল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
কূটনৈতিক চাল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ইউক্রেন যুদ্ধে নয়া মোড়! পুতিনকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে বড় চাল ট্রাম্পের

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইউক্রেনের মধ্যে দিয়ে ইউরোপে রুশ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ফের চালুর প্রস্তাব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরের সময় এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আমেরিকার কোনও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইউরোপে রুশ গ্যাস বিক্রির ব্যবস্থা করা হতে পারে। পাশাপাশি, রাশিয়ার গ্যাস বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ তৃতীয় কোনও দেশের এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। এর ফলে ওই অর্থ সরাসরি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে, গ্যাস পরিবহণের জন্য ট্রানজিট ফি বাবদ আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে ইউক্রেনও।

আমেরিকার কূটনীতিকদের ধারণা, ইউরোপের বিশাল জ্বালানি বাজারে ফের প্রবেশের সুযোগ রাশিয়ার কাছে বড় আর্থিক প্রণোদনা হয়ে উঠতে পারে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই পুতিনকে জ্বালানি ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি, শীতের আগে ইউরোপে জ্বালানির দাম কমানোর যুক্তিও সামনে আনছে ট্রাম্প প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকেই রুশ জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর পথে হাঁটতে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০২১ সালে ইউরোপের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশই মিটত রাশিয়া থেকে। বর্তমানে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ইউক্রেনের মধ্যে দিয়ে রুশ গ্যাসের নিয়মিত পরিবহণ বন্ধ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যখন সংঘাত থামার কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই, তখন জ্বালানিকে হাতিয়ার করেই কি পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারবেন ট্রাম্প? সেই উত্তর দেবে আগামী দিনের কূটনৈতিক পরিস্থিতিই।

Soham Mullick
সোহম মল্লিক

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা। ডিজিটাল মাধ্যমেই সাংবাদিকতার জগতে হাতেখড়ি। বর্তমানে Bengal Liberty-র কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসাবে গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছে। খেলাধুলা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ। পাশাপাশি, সব ধরনের খবরের খোঁজে কাটে রাত-দিন। অভিজ্ঞদের থেকে প্রতিনিয়ত শেখার আগ্রহ রয়েছে। কাজের বাইরে নেশা বলতে, সঙ্গীত চর্চা এবং ড্রামস বাজানো।