Bengal Liberty : দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মাঝেই বিশ্ববাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত! একলাফে প্রায় ৪ শতাংশ কমল অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগের মধ্যেই তেলের দামে এই পতন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
সোমবার, ২ নভেম্বর, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৮.৬৪ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা WTI ক্রুডের দামও প্রায় ৪.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৭১ ডলারে পৌঁছয়।
মূলত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের অবসান ঘিরে নতুন আশাই তেলের বাজারে এই পতনের অন্যতম কারণ। ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের আলোচনায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
আরও খবর
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী। এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগানে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলবাহী জাহাজের উপর হামলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
তেলের দামে এই পতন বাজারের কাছে আশার খবর হলেও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত কমেছে। পাশাপাশি, উপসাগরীয় দেশগুলির রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চললেও সরবরাহ ব্যবস্থায় এখনও নানা বাধা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা সফল হলে এবং তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে নতুন করে সংঘাত বাড়লে কিংবা জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা হলে তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। সব মিলিয়ে, তেলের দামে একধাক্কায় এই পতন বিশ্ব অর্থনীতির কাছে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উপরই এখন নজর গোটা বিশ্বের।


