Bengal Liberty : পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে (পিওকে) ঘিরে ফের নতুন করে উত্তেজনা! এবার কাশ্মীর ইস্যুতে সরব হওয়ার জেরে পাকিস্তানে আটক হলেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির কাউন্সিলর দালাত আলি। শুধু তাই নয়, মুক্তি পাওয়ার পরেও ব্রিটেনে ফেরার পথে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
ঠিক কী ঘটেছে?
ব্রিটেনের রচডেল বোরো কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার দালাত আলি অক্টোবর মাসে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। রচডেলের আনুষ্ঠানিক মেয়র ফয়সাল রানার নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দলের গন্তব্য ছিল পঞ্জাবের সাহিওয়াল শহর। দুই শহরের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও মজবুত করাই ছিল এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কিন্তু অভিযোগ, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর দালাত আলিকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আধিকারিকদের মধ্যে যোগাযোগের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সফরও চালিয়ে যান তিনি।
আরও খবর
ব্রিটেনে ফেরার পথেও বাধা
ঘটনার নতুন মোড় আসে ২৮ অক্টোবর। দেশে ফেরার জন্য লাহোর বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাঁকে নির্ধারিত বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অভিবাসন আধিকারিকরা তাঁকে জানান, তাঁর নাম পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এফআইএ-র কন্ট্রোল লিস্টে রয়েছে। এরপর ইসলামাবাদে গিয়ে অতিরিক্ত কাগজপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে খবর।
তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দালাত আলি আর হেফাজতে নেই। তিনি দ্রুত ব্রিটেনে ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন। ফলে তাঁর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রচডেল বোরো কাউন্সিলের সন্দেহ, কাশ্মীর নিয়ে দালাত আলির দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত প্রচার ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে। নিজের লেখায় পাকিস্তানকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দখলদার শক্তি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ্যে তাঁর আটকের নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। ফলে কাশ্মীর ইস্যুই এই পদক্ষেপের নেপথ্যে ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ লেবার সাংসদ ইমরান হুসেন। দালাত আলির নিরাপদে ব্রিটেনে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটেনের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, এক ব্যক্তিকে আটক করে পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
এদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিক্ষোভ, নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত দাবি এবং ধরপাকড়ের আবহে দালাত আলির ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং বাক্স্বাধীনতার প্রশ্ন ফের আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।


