Bengal Liberty : সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার প্রস্তুতি ভারতের। জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে ঘিরে এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হতে পারে নয়াদিল্লি। আর সেই আবহেই নতুন করে সামনে এসেছে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর ধূসর তালিকায় পাকিস্তানের ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা।
২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে চলা এফএটিএফের পূর্ণাঙ্গ বৈঠককে কেন্দ্র করেই বাড়ছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রসংঘের তালিকাভুক্ত জঙ্গি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পদক্ষেপের অভাবকে সামনে রেখেই ইসলামাবাদকে চাপে ফেলতে চাইছে ভারত।
মাসুদ আজহারকে ঘিরেই ভারতের নতুন কৌশল
দীর্ঘদিন ধরেই মাসুদ আজহারকে আশ্রয় দেওয়া এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না করার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। যদিও ইসলামাবাদের দাবি, আজহার ২০১৯ সাল থেকেই আফগানিস্তানে রয়েছে। তবে সম্প্রতি তালিবান প্রশাসনের তরফে সেই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে বলে খবর। ফলে পাকিস্তানের বক্তব্য নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেখছে নয়াদিল্লি।
আরও খবর
শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)-র মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় মাসুদ আজহারের নাম থাকা এবং তার গ্রেফতারির জন্য তথ্য দিলে ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। ভারতের বক্তব্য, কেবল পুরস্কার ঘোষণা কিংবা তালিকায় নাম রাখাই যথেষ্ট নয়, সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এফএটিএফের ধূসর তালিকায় ছিল পাকিস্তান। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রুখতে ব্যর্থতা, আর্থিক লেনদেনের নজরদারিতে দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ঘাটতির মতো একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে একাধিক শর্ত পূরণের পর ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ধূসর তালিকা থেকে পাকিস্তানকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, মাসুদ আজহারকে কেন্দ্র করে ভারতের সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপের জেরে ফের আলোচনায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ দমনের ভূমিকা। এবার প্যারিসের বৈঠকে ইসলামাবাদের জন্য কোনও নতুন অস্বস্তি অপেক্ষা করছে কি না, সে দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।


