Russia Kenya
Russia Kenya

রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ কেনীয়দের, ক্ষতিপূরণের দাবি প্রেসিডেন্ট রুটোর!

Bengal Liberty : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া কেনীয় নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানালেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরেই এ বিষয়ে উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে যাওয়া কেনীয় নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও বিশেষ পদক্ষেপ করছে নাইরোবি।

সম্প্রতি মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রুটো জানিয়েছেন, মস্কোয় কেনিয়ার দূতাবাসে একজন ডিফেন্স অ্যাটাশে নিয়োগ করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিপূরণের দাবি প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কেনীয় নাগরিকদের দেশে ফেরানোর কাজে সাহায্য করবেন ওই আধিকারিক।

তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কত হবে, কারা এই আর্থিক সাহায্য পাওয়ার যোগ্য হবেন কিংবা কবে থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

রুশ সেনাবাহিনীতে কেনীয় নাগরিকদের নিয়োগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, বেশ কয়েকজন কেনীয় নাগরিককে নিরাপত্তারক্ষী এবং লজিস্টিকসের মতো অসামরিক পদে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁদের সামরিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

‘জার্নালিস্টস ফর জাস্টিস’-এর একটি তদন্ত অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অন্তত ৮৪১ জন কেনীয় নাগরিককে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে, কেনিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস সংসদে জানিয়েছে, রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ হওয়া কেনীয় নাগরিকের সংখ্যা ১,০০০-এরও বেশি হতে পারে।

তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন, যাঁরা নিখোঁজ কিংবা যাঁরা বন্দি রয়েছেন, তাঁদের দেশে ফেরানো নিশ্চিত করাই এখন কেনিয়া সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের। রুশ সেনাবাহিনীতে কেনীয় নাগরিকদের নিয়োগের ঘটনা আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে কোনও উত্তেজনা তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।