তৃণমূলের পার্টি অফিসে তালা, আর তা ঘিরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা। কলকাতার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে মোটা লোহার চেন দিয়ে ঝুলছে তালা। কিন্তু কারা লাগাল সেই তালা? এই ঘটনার প্রতিবাদে কার্যালয়ের সামনেই বিক্ষোভে শামিল হলেন মমতা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের সরাসরি অভিযোগ, বিজেপির কয়েক জন কর্মী-সমর্থক এসে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনার নেপথ্যে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশ রয়েছে বলেও দাবি বিক্ষোভকারীদের।
ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন ওই কার্যালয়ে বসেই নিয়মিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। দলীয় কাজের জন্যও একাধিকবার এই অফিস ব্যবহার করেছেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কালীঘাট তৃণমূলের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই এই কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করেই ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে তাঁদের কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও খবর
বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মীদের বক্তব্য, তাঁদের দলীয় কার্যালয় আগের মতোই খোলা রাখতে হবে। সেখান থেকেই তাঁরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চান। তাঁদের দাবি, ওই কার্যালয়ে বসে দলীয় কাজকর্ম পরিচালনা করার অধিকার তাঁদের রয়েছে। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছেন না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা তৃণমূলের সমর্থকরা।
এক বিক্ষোভকারী জানান, “কার্যালয় খুলে না দেওয়া হলে তাঁরা এখানেই আমরণ অনশনে বসবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান থেকে উঠবেন না।” একইসঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও তাঁরা রাজি নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যালয়ের বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনা নিয়ে ফিরহাদ হাকিমের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কারা কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।


