Bengal Liberty: ‘পিসি-ভাইপো ২জি’—এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেই পরিবারতন্ত্রের প্রশ্নে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির একটি সভা থেকে কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদের একযোগে নিশানা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নেহরু-গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে শুরু করে বাংলার পিসি-ভাইপো রাজনীতি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব, করোনা টিকাকরণ এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

কংগ্রেসকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “চাচা নেহরু, মেয়ে ইন্দিরা, ছেলে রাজীব গান্ধী, ছেলে রাহুল গান্ধী—এ ভাবেই পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে দেশ চালানো হয়েছে। আর বাংলায় পিসি-ভাইপো।” তাঁর কটাক্ষ, একদিকে কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্র, অন্যদিকে বাংলায় তৃণমূলের পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি। এই প্রসঙ্গেই বিরোধী জোটের দলগুলিকে ৪জি, ৩জি বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে করোনা অতিমারির সময়ের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আগে বিভিন্ন মহামারির টিকা আবিষ্কার করতে ১০ থেকে ১১ বছর সময় লেগেছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতে টিকা তৈরি হয়েছে।” তাঁর দাবি, “নরেন্দ্র মোদি দেশের মানুষকে বিনামূল্যে করোনা টিকা দিয়েছেন। মোদিজি যত দিন থাকবেন, তত দিন কোনও জোটশক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।” ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।
আরও খবর
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “লড়াই করতে হলে আগে জিতে দেখাতে হবে।” রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফলের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, আগামী পুরসভা নির্বাচনগুলিতেও বিরোধীরা একই ভাবে পরাজিত হবে। হাওড়া ও কলকাতাতেও বিরোধীদের ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ দিন নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “ভাইপো ভাইপো করছেন কেন? ভাইপোর কী হয়, সময় হলে দেখবেন।” পাশাপাশি তাঁর দাবি, “এই সরকার শাহজাহানকেও ছাড়েনি, পুষ্পাকেও ছাড়েনি।” এসআইআর-বিরোধিতা এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ-সহ একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।


