Bengal Liberty: তোলাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম! তাঁকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকোন্দল রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন বিধায়ক। অন্য দিকে, ঘটনার পরেও থমথমে রয়েছে ডেবরা এলাকা। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ডেবরা থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত ১০/২ ডুয়া অঞ্চল অফিসে। সূত্রের খবর, সেখানে এক মহিলা বিজেপি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই মহিলা থানায় অভিযোগ জানাতে যাওয়ার সময়েই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। অভিযোগ, বিধায়ক শুভাশিস ওম এবং তাঁর অনুগামীরা ওই মহিলা ও কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে থানায় যেতে বাধা দেন। এমনকি থানার সামনেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিধায়ক নিজেও আক্রান্ত হন বলে দাবি তাঁর।
সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুভাশিস বলেন, ‘‘অঞ্চলে একটা ঘটনা ঘটেছিল। যাতে অভিযোগ জানাতে না যায়, সে ব্যাপারে কথা বলেছিলাম। এক পতাকার তলায় থেকে ওই সব করতে নিষেধ করেছিলাম। তার পরেই কয়েক জন কর্মী মারধর শুরু করে। আমি আটকাতে গেলে আমাকেও মারধর করে।’’
আরও খবর
তবে বিধায়ককে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘‘এক মহিলা কর্মকর্তাকে মারধরকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোল হয়েছে। ওই মহিলা থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলেন। সেখানে বাধা দেওয়া হয়।’’ বিধায়কের আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, বিধায়কের গায়ে কেউ হাত তোলেনি। তাঁর কথায়, অঞ্চল অফিস, থানা এবং হাসপাতাল চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। পুলিশ ওই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে ডুয়া অঞ্চল অফিস, ডেবরা থানা ও ডেবরা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তন্ময়। দলের কোনও কর্মী মারধরের ঘটনায় যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।
অন্য দিকে, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, নিজেদের মধ্যে কোনও গণ্ডগোল হয়ে থাকলে দল তা খতিয়ে দেখবে। হিংসা বা মারামারির ঘটনা ঘটলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে বিধায়ককে মারধরের অভিযোগ এবং বিজেপির অন্দরের সংঘাত ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত।


