মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

হঠাৎই শিলিগুড়ি পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী, পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়ে পরিদর্শন

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

এ দিন উত্তরবঙ্গের একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক সেরে শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই শুরু হয় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’। উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধায়ক, সাংসদ এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল এগিয়ে যায় এয়ারভিউ মোড়ের দিকে। সেখানে সভামঞ্চ থেকে বক্তৃতা দেওয়ার পরই শিলিগুড়ি পুরসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু। সেই মতো মিছিলের কর্মসূচি সেরে সরাসরি পুরসভায় পৌঁছে যান তিনি।

পুর কমিশনার, প্রশাসক ছাড়াও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার উপস্থিতিতে পুর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “যা তা অবস্থা করে দিয়েছে। এগুলো মেরামত করতে সময় লাগবে। এই শহরে নতুন বাড়ি করার মতো আর জায়গা নেই। প্রায় ৬০০ অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন, যাঁদের বাম ও তৃণমূল আমলে নিয়োগ করা হয়েছে।”

শিলিগুড়ি পুরসভার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা ও হাওড়ার পর শিলিগুড়ি পুরসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে নানা ধরনের অভাব-অভিযোগ জানাচ্ছেন। তাঁকে সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছিল। তাই আইনসম্মত নির্দেশিকা মেনে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শহরকে আবর্জনামুক্ত রাখা, পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ও বোনাসের বিষয়টিও দ্রুত মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি আগের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাজার করে দেওয়া থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয় খুলে দেওয়ার মতো কাজেও কেউ কেউ যুক্ত ছিলেন। ৪ মে-র পর যাঁদের পুরসভায় দেখা যায়নি, তাঁদের আর দায়িত্বে রাখা হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে নাগরিক পরিষেবায় কোনও ঘাটতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পুরসভার কয়েকটি ফাইল আটকে থাকার প্রসঙ্গও ওঠে বৈঠকে। এ বিষয়ে অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে কথা বলে ফাইলগুলি ছাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। কালীপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত শহরকে সুন্দর করে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রেলের জমিতে উচ্ছেদ সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে রেল আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সাংসদ রাজু বিস্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। আগামী বার উত্তরকন্যায় এলে পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে ফের বৈঠকে বসবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Bengal Liberty