Bengal Liberty: যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তদন্তের নামে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়েছে আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।
শুনানিতে আদালত জানায়, গত ৩১ অক্টোবর তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনটি মূলত একটি ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ বা তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিবরণ। সেখানে পুলিশি নির্যাতন ও হিংসার অভিযোগ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়নি। আদালত তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত সমস্ত নথি, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি, ঘটনার দিন কর্তব্যরত সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের তলব করে তাঁদের বক্তব্যও শুনতে হবে। শীর্ষ আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, তদন্তের পরিধি শুধুমাত্র সরাসরি আক্রান্ত আন্দোলনকারীদের দায়ের করা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।
নির্যাতিতদের আইনজীবী, বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ভিডিও ক্লিপ ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে কমিটিকে। যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল একাধিক ছাত্র সংগঠন এবং মানবাধিকার রক্ষার সংগঠন।
আরও খবর
সুপ্রিম কোর্টের এক প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি আদালতকে জানিয়েছে, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে সংঘটিত ঘটনার তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য ও উপাদান সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে। আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সংখ্যায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি বলেও জানিয়েছে কমিটি। কমিটির দাবি, আন্দোলন ও সংসদ অভিযানের দিনের ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগ জানানোর আবেদন জানিয়ে দেশের প্রায় ১৪৯টি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। অনলাইন পোর্টাল এবং সরাসরি কমিটির দফতরে গিয়েও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়।
তা সত্ত্বেও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। পরবর্তী সময়ে গত ২১ অক্টোবর ফের সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিটির ওয়েবসাইট ও দফতরের ঠিকানা জানিয়ে অভিযোগ জমা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
পরবর্তী সময়ে দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ। গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও অভিযানের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। এই ঘটনায় একাধিক পড়ুয়া ও আন্দোলনকারী পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার পাল্টা অভিযোগও সামনে আসে। এবার সুপ্রিম কোর্টের এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণের নির্দেশে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হল।


