Myanmar Election
দিয়া জানা, Bengal Liberty: মায়ানমারে নির্বাচন! তাও আবার সামরিক অভ্যুত্থানের পর। রবিবার সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টার ওপর বিশেষ নজর ছিল। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের বাতাবরণ অব্যাহত। এমতাবস্থায় ভোটগ্রহণ পর্ব চলার বিষয়টা নিয়ে মায়ানমারের গণতন্ত্রকামী বাসীরা স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহী।
ভোটগ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রেক্ষাপট (Myanmar Election)
২০২১ সালে নোবেল বিজয়ী নেতা অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার পর মায়ানমারে সেনা শাসনের সূচনা ঘটে। ৫ বছরের মাথায় রবিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় ভোটাভুটি পর্ব। মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে প্রথম ধাপে ১০২টি এলাকায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর। পরবর্তী দফাগুলো যথাক্রমে ১১ এবং২৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। বলা বাহুল্য, এবার ব্যালটের পরিবর্তে EVM মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে সামগ্রিক ভোট প্রক্রিয়া।

নির্বাচনের পরিবেশ ও নিরাপত্তা
ভোট পর্ব শুরুর আগেই থেকেই ইয়াংগুন ও নেইপিদো-সহ মায়ানমারের বড় শহরগুলোর ভোটকেন্দ্রের বাইরে এবং বুথে নিরাপত্তা জোরদার ছিল। সশস্ত্র পুলিশ, সেনা কড়া পাহারা মানুষ তাঁদের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
বিরোধিতা ও সমালোচনা
অং সান সু চি’র দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (NLD) এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে স্থানীয় সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি। কারণ, সংশ্লিষ্ট দলটি নতুন নিয়মের অধীনে রেজিস্ট্রেশন করতে অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি, বহু বিরোধী দল, বিশেষ করে নাগরিক সমাজ এই নির্বাচনকে “স্বৈরাচারী শাসনকে বৈধতা দেওয়ার প্রহসন” হিসেবে সমালোচনা করেছে গিয়েছে। পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর মতে, এই ভোটের পরিবেশ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নয়। বিরোধী দলগুলো সঠিকভাবে প্রচারকাজও করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
৩ দফায় ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচনী ফলাফল জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে ঘোষণা হবে। সামরিক-সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (USDP) নির্বাচনে প্রাধান্য পেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
