SIR
Bengal Liberty: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) চাপ ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতির বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যেই কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election commission)। হুগলিতে তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বে শুনানি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার পর কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিল— কোনও রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্ট (BLA-2) কোনও ভাবেই এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক চাপে পড়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা যাবে না। হুগলিতে (Hooghly) শুনানি বন্ধের ঘটনার পর রাজ্যের সব জেলাশাসককে (District Magistrate) এই নির্দেশ মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার হুগলির চুঁচুড়া–মগড়া ব্লক অফিসে গিয়ে এসআইআর শুনানি কার্যত স্তব্ধ করে দেন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার (Asit Majumder) । প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে আটকে যায় শুনানি। কমিশনের মতে, এটি সরাসরি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা। ওই ঘটনার পরই রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকের কাছে কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে পাঠানো নির্দেশিকা (SIR)
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শুনানিকেন্দ্রে কোনও রাজনৈতিক দলের এজেন্ট প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সেই অজুহাতে শুনানি বন্ধ রাখা চলবে না। প্রয়োজনে জেলাশাসককেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। বিএলএ-দের প্রবেশ রোধ এবং শুনানি নির্বিঘ্ন রাখা— এই দু’টি দায়িত্বই জেলাশাসকদের নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, বিএলএ-দের ঢুকতে দিলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, কোনও শুনানিকেন্দ্রে যদি রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হুগলির মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে কমিশন।
এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতির দাবিতে সোমবার হুগলির চুঁচুড়া–মগড়া ব্লক অফিসে গিয়ে শুনানি প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে থমকে যায় প্রশাসনিক কাজ। কিন্তু ওই ঘটনার পরেই কমিশন জানিয়ে দেয়, এই ধরনের চাপসৃষ্টির রাজনীতি কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
হুগলির ঘটনা (SIR)
প্রসঙ্গত, রবিবার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর শুনানিতে এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানান বলে সূত্রের খবর। সেখানেই এটিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ বলে দাবি করা হয়। তার পরদিনই হুগলিতে তৎপর হন বিধায়ক অসিত মজুমদার।
চুঁচুড়া–মগড়া ব্লকে অসিত মজুমদার কমিশনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করে শুনানি বন্ধ রাখেন। তাঁর দাবি ছিল, সাধারণ মানুষকে ‘হেনস্থা’ করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে শুনানি বন্ধ থাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে দেখে পরে ‘মানবিক কারণ’-এর কথা বলে তিনি অবস্থান তুলে নিলেও, ভবিষ্যতে আবার শুনানি বন্ধ করার হুমকি দেন।
কমিশনের কড়া নির্দেশ (SIR)
শুধু হুগলি নয়, সোমবার বর্ধমানের একটি কেন্দ্রেও এসআইআর (SIR) শুনানি ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ ও অশান্তির খবর সামনে এসেছে। কমিশনের মতে, এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সচেতন ভাবেই সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে, যার লক্ষ্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলা।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের বার্তা স্পষ্ট— ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, হুমকি বা বিশৃঙ্খলার কোনও জায়গা নেই। তৃণমূলের চাপের রাজনীতির কাছে কমিশন মাথা নত করবে না।
