Amit shah in kolkata
Bengal Liberty Desk, ৩০ ডিসেম্বর, কলকাতা: দিল্লি (Delhi) এবং বিহারের (Bihar) ভোটে গেরুয়া ঝড়ের পর এবার নজরে বাংলা। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ফের বাংলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় আসার পরেই ভোটের বাদ্যি গিয়েছে। আর এবার রাজ্যে চলা SIR এর আবহের মধ্যেই গতকাল, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলায় পা রাখেন অমিত শাহ (Amit shah)।
আজ, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ শুরু হয় শাহের সাংবাদিক বৈঠক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলায় নির্বাচন হবে, সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করলেন অমিত শাহ। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন, কোন অঙ্কে ছাব্বিশের ভোটে বিপুল সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।
শাহ বলেন, “২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৭ শতাংশ ভোট এবং ২ টি আসন পেয়েছে বিজেপি। ২০১৬ বিধানসভা ভোটে ১০ শতাংশ ভোট এবং ৩টি আসন। ২০১৯ সালের লোকসভায় বেড়ে হয় ৪১ শতাংশ ভোট এবং ১৮ আসন। এর পর ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭ টি আসন পায় বিজেপি। কংগ্রেস পার্টিও এই রাজ্যে শূন্য, বামেরাও কোনও ভোট পায়নি। বাংলায় প্রধান বিরোধী দল হয়েছে বিজেপি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩৯ শতাংশ ভোট ও ১২ টি আসন পেয়েছে বিজেপি।” ছাব্বিশেও বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে বলে দাবি করেন শাহ।
তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে শাহের (Amit Shah)
এরপরই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে শাহের (Amit shah) মন্তব্য, তৃণমূলের নেতৃত্বে বাংলার বিকাশ থমকে গিয়েছে। পুরো দেশে যে বিকাশ হচ্ছে সেটা এই রাজ্যে কাটমানির জেরে বন্ধ। ১৪ বছর ধরে দুর্নীতিই বাংলার পরিচয় হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর যখন এখানে বিজেপি সরকার আসবে তখন পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব আমরা পুনরুদ্ধার করা হবে, এটাই বিজেপির সংকল্প। বাংলার গৌরব-সংস্কৃতির পুনজাগরণ হবে। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বাংলার মনিষীদের স্বপ্নের বাংলা তৈরি করবে বিজেপি। বিজেপির বীজ বপন হয়েছিল জনসংঘ থেকে। জনসংঘ স্থাপন করেছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর স্বপ্নের বাংলা গড়ার চেষ্টা করবে বিজেপি। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর মহারাষ্ট্রে হরিয়ানা দিল্লি বিহারে বিজেপির সরকার হয়েছে। ২০২৪ সালে ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে বিজেপি এবং NDA সরকার হয়েছে। ২০২৬ সালে দুই তৃতীয়াংশ জন সমর্থন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে বলে দাবি করেন অমিত শাহ।
রাজ্যে দুর্নীতি ইস্যুতে শাসকদলকে বিঁধে শাহ বলেন, “তৃণমূল সরকার আসার পর থেকে একের পর এক ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। লিস্ট পড়তে গেলে পুরো সময়টাই চলে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কি উত্তর দিতে পারবেন কেন আপনার মন্ত্রীর বাড়ি থেকে ২৭ কোটি টাকা পাওয়া যায়? এই সরকারের কোনও দায়বদ্ধতা নেই বাংলার মানুষদের প্রতি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রনাথ সিনহা, কুনাল ঘোষ, পরেশ অধিকারী সহ তৃণমূলের বহু নেতা মন্ত্রী জেলে গিয়েছেন। বাংলার মানুষ আর চুপ করে থাকবে না।”
বাংলায় শিল্প, কল-কারখানা নিয়ে শাহের মন্তব্য, “যাকে এক সময় সোনার বাংলা বলা হত আজ সেই বাংলা আর নেই। সব ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে যাচ্ছে। দেশের প্রথম মোটর কারখানা, পাওয়ার প্ল্যান্ট, হাই রাইজ, জুট মিল, মেট্রো, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় সহ অনেক কিছুই পশ্চিমবঙ্গে হয়েছে। কিন্তু এই সব কিছুই তৃণমূলের আমলে হয়নি। বরং তৃণমূল এই রাজ্যকে পিছিয়ে দিচ্ছে। বাংলাকে পুরো শেষ করে দিয়েছে। ৭০০০ এর বেশি সংস্থা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে।”
রাজ্যে বড় শিল্পের অভাব নিয়েও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন, “কামানোর অধিকার এখানে একমাত্র ভাইপোর। আর কারও অধিকার নেই। শিল্প ক্ষেত্রে বাংলা পুরোপুরি ধ্বংস। তা আপনার আমলে হয়েছে। বামেরা অর্ধেক শেষ করে গিয়েছিল। আপনি পুরোটা শেষ করে দিয়েছেন (Amit shah)।”
