West Bengal Police Failure
Bengal Liberty:উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলার ফালাকাটা (Falakata Police Station) থানার দেওগাঁও (Deogaon) এলাকায় একাধিক দোকান জোরপূর্বক দখলের (Multiple shops forcibly occupied) অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে। এই ঘটনায় এক্স-এ (Twitter) একটি পোস্ট করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিরোধী দলনেতা ঘটনাপ্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেছেন, ” পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন এই মূহুর্তে নেই, প্রশাসন সম্পূর্ণ ভাবে শাসক দলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে সরকার (TMC) চলছে না সার্কাস বোঝা দায়।”

জবরদস্তি জমি দখলের অভিযোগ
নিজের পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, দেওগাঁও এলাকার দোকানের পাড়ে প্রমোদ কৃষ্ণ আর্য, বাবুরাম দাস, দীপক দাস ও সঞ্জয় সরকারের দোকান জবরদস্তি দখল করে নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর নেতৃত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গোটা ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
“পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে” – শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে এবং প্রশাসন পুরোপুরি শাসক দলের প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্যে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘তোষণনীতি’ অবলম্বনের অভিযোগও উঠে এসেছে। বিরোধী দলনেতার দাবি, ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির কারণে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বর্তমানে এই রাজ্যে মমতা সরকারের তোষণনীতি চরমসীমায় পৌঁছে গিয়েছে, উদ্দেশ্যে সেই ভোটব্যাঙ্ক, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিজের কুর্সি টিকিয়ে রাখতে হবে।”

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুভেন্দুর
এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জেরেই সাধারণ মানুষের সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকছে না এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। পোস্টার ক্যাপশনের শেষে শাসক দলকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “রাজ্যের হিন্দুদের একত্রিত হয়ে অবিলম্বে এই সরকারটাকে শিকড় সমেত উপড়ে ফেলতে হবে, না হলে এই সব ঘটনা তো ট্রেলার মাত্র, আগামী দিনে হিন্দুদের ভিটে মাটি সব এভাবে প্রশাসনের সামনেই দখল হবে, আর হিন্দুদের সব খোয়াতে হবে।”
তবে এই ঘটনা প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন বা ফালাকাটা থানার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও অভিযোগগুলি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসন এরপর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা তাই এখন দেখার।
