Governor On Union Budget 2026
Bengal Liberty:
আজ সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে বাজেট(Governor On Union Budget 2026) পেশ করেছেন, তাকে ভারতের অর্থনীতির ভিত মজবুত করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ডঃ সি. ভি. আনন্দ বোস। তাঁর মতে, এই বাজেট কেবল আগামী এক বছরের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান নয়, বরং উন্নত ভারতের লক্ষ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বচ্ছ রোডম্যাপ।

অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি ও পরিকাঠামো উন্নয়ন(Governor On Union Budget 2026)
রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে অর্থমন্ত্রীর আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করে জানান যে, এই বাজেট দেশের আর্থিক স্থায়িত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, রেলওয়ে প্রজেক্ট এবং ইকোনমিক করিডোর নির্মাণের ওপর যে জোর দেওয়া হয়েছে, তাকে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজ্যপালের মতে:
* বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি দেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
* যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বাণিজ্যের গতি বাড়বে, যা সরাসরি জিডিপি (GDP) বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
* দীর্ঘমেয়াদী লগ্নি ভারতের শিল্প ক্ষেত্রকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

নারীশক্তি ও জনকল্যাণে বিশেষ জোর(Governor On Union Budget 2026)
বাজেটের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে ‘নারীশক্তি’-র কথা উল্লেখ করেছেন মাননীয় রাজ্যপাল। মহিলা ও তরুণীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলিকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, এই বাজেটের ফলে সাধারণ নাগরিকরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আর্থিক বিনিয়োগের বিষয়ে আরও সচেতন হতে পারবেন।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন আশার আলো
রাজ্যপাল তাঁর বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, এই বাজেটকে বাংলার জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই বাজেট রাজ্যের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে:
1. শিল্পের বিকাশ: বাজেটে প্রস্তাবিত শিল্প বান্ধব নীতিগুলি পশ্চিমবঙ্গের ঝিমিয়ে পড়া শিল্পে পুনরায় প্রাণসঞ্চার করবে।
2. গ্রামোন্নয়ন: গ্রাম্য প্রকল্পগুলোর সঠিক রূপায়ণের মাধ্যমে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে।
3. স্বাস্থ্য পরিষেবা: আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গঠনের ফলে সাধারণ মানুষ উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
4. বেকারত্ব দূরীকরণ: নতুন প্রকল্পগুলি বাংলার শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিকূল সময়ে কেন্দ্রীয় বাজেটের এই দিশা বাংলার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ—সবার জন্যই অত্যন্ত লাভদায়ক হবে। মানবজীবনের সার্বিক উন্নয়নই এই বাজেটের লক্ষ্য, যা বাংলাকে পুনরায় উন্নয়নের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
পরিশেষে, রাজ্যপাল এই বাজেটকে ‘ভবিষ্যতের আশার আলো’ হিসেবে বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
