দোকানে বাংলায় লেখা নামফলক বাধ্যতামূলক। উর্দুপ্রেমী ফিরহাদের (Mayor Firhad Hakim) নিদান!
Bengal Liberty: কলকাতায় ব্যবসা করতে গেলে দোকান এবং শপিং মলগুলোতে বাংলায় নামফলক লেখা বাধ্যতামূলক। গত শুক্রবার কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে এমনটা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Mayor Firhad Hakim)।
পুর অধিবেশনে ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী বাংলায় দোকানের নামফলক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার জবাবেই মেয়র ঘোষণা করেন, “শুধু ইংরেজি বা হিন্দি নয়, কলকাতায় ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই বাংলায় বোর্ড লাগাতে হবে। বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দিতেই হবে।”
বাংলা বোর্ড নিয়ে মেয়রের (Mayor Firhad Hakim) নির্দেশ
মেয়র বলেন, ‘শপিং মল, দোকানগুলোতে নামের ফলক বাংলায় দেখা যায় না। সেই ব্যবস্থা বদলাতে হবে। অন্য ভাষায় লেখা থাকতে পারে, তবে বাংলাকে সবার আগে রাখতে হবে। অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, কোনও দোকান বা শপিং মল বাংলায় বোর্ড লাগাতে অস্বীকার করে, তবে তাদের ব্যবসার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হবে না। এজন্য পুরসভার লাইসেন্স বিভাগ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের কড়া পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক আবহ
ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে আসছে। শাসক দল এই ইস্যুকে যখন হাতিয়ার করছে, সেই সময় পুরসভার এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজেপির কটাক্ষ
তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। কাউন্সিলর সজল ঘোষ বলেন, “বাংলায় ব্যবসা করতে গেলে বাংলা ব্যবহার করতে হবে। আবার বাংলায় থাকতে গেলে উর্দু বলতে হবে— একই অঙ্গে এত রূপ দেখে মুসলমানরাও হাসছেন। কদিন আগেই ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, অর্ধেক জনতা উর্দুতেই কথা বলবে। এখন তিনি বাংলা ভাষার রামমোহন রায় সাজছেন। অথচ এদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে পড়াশোনা করে। তখন বাংলা ভাষার টান কোথায় থাকে?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কটাক্ষ করে সজলের বক্তব্য, “আসলে রবীন্দ্রনাথের বাংলা চলবে না, চলবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা। বাংলার সেন্টিমেন্টকে ভোটব্যাঙ্কের জন্য ব্যবহার করছে তৃণমূল। নির্বাচনের সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার প্রার্থী বিহার থেকে আনেন।’’
