Muri ghugni voter
Bengal liberty desk,23 এপ্রিল :
বীরভূমের ভোট মানেই তো নিত্যনতুন কাণ্ড! একসময় যে নানুরে অনুব্রত মণ্ডল ‘গুড়-বাতাসা’ আর ‘ঢাক বাজানো’র দাওয়াই দিতেন, আজ সেখানে ভোটের সকালে দেখা গেল অন্য ছবি। গরমে গুড়-বাতাসার বদলে এবার জায়গা নিল মুড়ি আর ঘুগনি (Birbhum voter)। হাসন কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখের বিরুদ্ধে উঠল ভোটারদের ঢালাও মুড়ি-ঘুগনি খাওয়ানোর এক অদ্ভুত অভিযোগ।

লাইনের পাশেই মুড়ি-ঘুগনির প্যাকেট! Birbhum voter
আজ বৃহস্পতিবার হাসনের পাপুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন কাজল শেখ। অভিযোগ, তিনি ভোট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই বুথের কাছে শুরু হয় এই ‘স্পেশাল মেনু’র বিলি। ভোটাররা ভোট দিয়ে বেরোলেই তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুড়ি আর ঘুগনির প্যাকেট। আয়োজকদের দাবি, কাজল শেখের নির্দেশেই এই আয়োজন। যে-ই ভোট দিয়ে বেরোচ্ছেন, তাঁর জন্যই থাকছে এই হালকা জলখাবারের ব্যবস্থা। এখন প্রশ্ন উঠছে, তপ্ত দুপুরে ভোটারদের মন গলাতেই কি এই ঘুগনি-মুড়ির টোপ?

ডামি ইভিএম-এ হাতেকলমে ‘শিক্ষা’:
শুধু খাওয়ানোই নয়, তার সাথে ফ্রি-তে চলছে ‘ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ’ও। অভিযোগ উঠেছে, বুথের একদম কাছেই একটা নকল বা ডামি ইভিএম মেশিন রাখা হয়েছে। সেখানে নানুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাজির ছবি আর জোড়াফুল চিহ্ন এঁকে ভোটারদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঠিক কোন বোতামটা টিপতে হবে। একদিকে ঘুগনি-মুড়ি আর অন্যদিকে ডামি ইভিএম—দুটো মিলিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার এই চেষ্টা নিয়ে হাসাহাসি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

কাজল শেখের পাল্টা দাবি:
তবে এসব অভিযোগ গায়ে মাখছেন না কাজল শেখ। তিনি ভোট দিয়ে বেরিয়েই দাবি করেছেন, বীরভূমের ১১টি আসনেই তৃণমূল জিতবে। বিরোধীরা নাকি খাতা খুলতেই পারবে না। কমিশনকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি।
অনৈতিক নাকি হাস্যকর?
ভোটারদের প্রভাবিত করতে এভাবে ঘুগনি-মুড়ি খাওয়ানো কতটা নীতিসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তাঁরা বলছেন, নির্বাচনী আচরণবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্যে এসব করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষও হাসাহাসি করছেন—নেতারা কি সত্যিই ভাবছেন যে এক প্লেট মুড়ি-ঘুগনি দিয়ে মানুষের রায় কেনা সম্ভব? নাকি এটা নিছকই ‘আতিথেয়তা’?
এখন দেখার, ভোটারদের এই ‘মুড়ি-ঘুগনির আপ্যায়ন’ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কী কড়া দাওয়াই দেয়।
