Language politics for votes
Bengal Liberty: দ্বিজাতি তত্ত্বে ভাগ হয়েছিল দেশ। সেই ক্ষত আজও পূরণ হয়নি। আগামী দিনেও হবে না। এই আবহে এবার ভাষাপ্রীতির (Language politics for votes) অজুহাতে দেশে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ভোটস্বার্থ চরিতার্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন রাজনীতিকরা। পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, বিহার, গুজরাত― সর্বত্রই একই ছবি। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভিনরাজ্যের মানুষ কিংবা অন্য ভাষাভাষীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মনে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের ঐক্যে আঘাত হানতেও দু’বার ভাবছে না রাজনৈতিক দলগুলো। বহুত্ববাদ ও বৈচিত্রময় ভারতের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য, দেশবাসীর মন থেকে ক্রমে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
Language politics for votes মহারাষ্ট্রের অবস্থা
মহারাষ্ট্রে মারাঠি ভাষা না-জানায় মারধরের শিকার হতে হ’ল এক পরিযায়ী শ্রমিককে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকেও চড় মেরেছে অভিযুক্তরা। নাসিকের রাস্তায় গাড়ি চালানো শেখার সময় প্রতিবেশির সঙ্গে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায় গড়ায়। এখানেই শেষ নয়, পরের দিন ঘটনাটি পৌঁছে যায় রাজঠাকরের অনুগামীদের কানে। অভিযোগ, এরপর চলে হুমকি। নির্দিষ্ট সময়সীমার বেঁধে দেওয়া হয় মারাঠি ভাষা শিখতে। সংবাদমাধ্যমে ওই শ্রমিক জানান, তাঁকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও মিলেছে। এমনই আরেকটি ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাল ঠাকরের রাজ্য। সুলভ শৌচালয়ের এক কর্মী মারাঠি ভাষা না-জানায় মারধরের মুখে পড়েন।

ভাষাভিত্তিক এই আক্রমণের রাজনীতি অবশ্য নতুন নয়। ঠাকরের আমল থেকেই এর সূত্রপাত। পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয় সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের এক প্রস্তাবকে ঘিরে। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি ও আধা-সরকারি সব অফিসে মারাঠি ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
Language politics for votes বাংলায় ভাষা ইস্যু
একই পথে হাঁটতে দেখা গেল এবার পশ্চিমবঙ্গকেও। গত শুক্রবার কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দিলেন— কলকাতায় ব্যবসা করতে গেলে সমস্ত দোকান এবং শপিং মলে বাংলায় নামফলক থাকা বাধ্যতামূলক। মেয়রের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে বাংলায় নামফলক দেখা যায় না। সেই ত্রুটি সংশোধন করতেই এই পদক্ষেপ। অগ্রাধিকার পেতে হবে বাংলাকেই। নাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রসঙ্গত, এই ফিরহাদ হাকিম মহাশয় উর্দু ভাষার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন এক সভা থেকে। এছাড়াও, বাংলা ভাষা আন্দোলনের নামে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের বৈতরণী পার করতে চাইছেন, তা গত ২১ জুলাইয়ে সভা থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ভোটের রেজাল্ট পর্যন্ত চলবে ভাষা আন্দোলন।’ অর্থাৎ, বাংলা ইস্যু যে কেবলমাত্র ভোট কৌশলের একটা হাতিয়ার, তা স্পষ্ট।
Language politics for votes পরিযায়ী শ্রমিকরাই কেন?
ইতিমধ্যে রাজভবনে তরফে পাওয়া তথ্য মোতাবেক হরিয়ানায় ১০০০ জন বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই রাজ্যের পুলিশ। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, ১০০০ জনের মধ্যে ৯১৫-ই বাংলাদেশি। কিন্তু, প্রশ্ন একটাই, কেবলমাত্র পরিযায়ী শ্রমিকরাই নন, উচ্চ কাজে যুক্ত বাংলাভাষীরাও বাংলাদেশি হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কেন এই বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না? কেন কেবলমাত্র পরিযায়ী শ্রমিকদের ধরা হচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন।
