Bengal Liberty
পার হয়েছে আড়াই মাস (Indian Citizenship)। বৃদ্ধ জলিল আখতারকে মুক্ত করতে কখনও প্রশাসনের দফতরে, কখনও আদালতে ছুটে বেড়াচ্ছে তাঁর পরিবার। গত ১৯ জুন রাতে উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির বাজারগাঁও-২ পঞ্চায়েতের বাঘরই গ্রাম থেকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরিবারের তরফে দাবি, নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
ফুলবাড়ি ও চাকুলিয়ার হোল্ডিং সেন্টারে বেশ কিছুদিন রাখার পর গত ২২ অগস্ট জলিলকে ইসলামপুর আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, জলিলের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা দায়ের হয়েছে।পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়। তবে এখনও জামিন মেলেনি। জলিলের আইনজীবী মুক্তার আহমেদের জানান, তাঁর মক্কেল ভারতের নাগরিক, তার প্রমাণ হিসেবে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও একের পর এক শুনানির তারিখ পড়ছে। কিন্তু এখনও জামিন অধরা।

আরও খবর
নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথি Indian Citizenship
পারিবারিক সূত্রে খবর, জলিলের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতেই। ১৯৬৭ সালে তাঁর বাবার নামে কেনা জমির দলিল রয়েছে। ২০০২ এবং ২০২৬ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। এছাড়াও তাঁর আধার কার্ড, প্যান কার্ড, জব কার্ড এবং পঞ্চায়েতের দেওয়া বিভিন্ন শংসাপত্র রয়েছে। জলিলের মেয়ে কুলসুম খাতুনের অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে ডালখোলা থানার পুলিশ তাঁর বাবাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে পুলিশের বক্তব্য, বৈধ কাগজপত্র নিয়ে এলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
‘বাবার বয়স হয়েছে, ধকল সহ্য করতে পারছেন না’
কুলসুমের দাবি, তাঁর বাবার বয়স অনেকটাই বেশি। উচ্চমাত্রার ডায়াবিটিসে ভুগছেন । তাঁর কথায়, বিনা দোষে এতদিন ধরে আটক থাকায়, মানসিক ও শারীরিক ধকল বৃদ্ধ জলিল আর সহ্য করতে পারছেন না।
ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার রাকেশ সিং বলেন, “ফরেনার্স অ্যাক্টে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুরোপুরি আদালতের বিচারাধীন।” অর্থাৎ, জলিলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার এখন আদালতেই চলছে। তাঁর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি এবং পরিবারের দাবির বিষয়টিও আদালতের বিবেচনাধীন।
বিষয়টি রাজ্য পুলিশের আধিকারিকের কাছে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে। জলিলের সমস্ত নাগরিকত্বের নথি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি ভারতীয় নাগরিক প্রমাণিত হলে তাঁর সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


