Bengal Liberty : ভোটাধিকার ও ভোটার তালিকা সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই একের পর এক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, বামপন্থী নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, আইনজীবী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আটক করেছে পুলিশ। দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে আটক হয়েছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আটক করা হয়েছে আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল, লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকেও। আটক হয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীও। এমতাবস্থায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সংবিধানই চূড়ান্ত।”

আটক একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসার পরই পুলিশ আটক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মমতার সঙ্গে আটক করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখলেকেও। অন্যদিকে, দিল্লির পথে আটক হন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল। বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ধরপাকড় থেকে বাদ যাননি বামপন্থী নেতারাও।
লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে আটক করা হয়েছে। দিল্লি-হরিয়ানা সীমানার সিংঘুর কাছে বুরারি থানায় আটক করা হয় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী-সহ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ২০ জন সদস্যকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও। অন্যদিকে, দিল্লির মুন্ডকা থানায় আটক করা হয়েছে ঐশী ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গীদের। আটক হয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জনালেন তাঁর মেয়ে।
আরও খবর
বিজয়ন-অভিজিৎ আটক
দিল্লিতে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন আটক হওয়ার প্রতিবাদেও পথে নেমেছে সিপিএম। শনিবার সকালে গুরুগ্রামের একটি আবাসন থেকে আটক করা হয় দেশের পরিচিত ডিজিটাল কনটেন্ট স্রষ্টা ধ্রুব রাঠীকে। ধ্রুব ছাড়াও সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় একাধিক তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি, প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই বিমানের মধ্যে আটক করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা অভিজিৎ দীপ, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে প্রতিবাদী যুবসমাজের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা ভিডিয়োয় তিনি বলেন, “ভারতের যুবসমাজ, প্রতিবাদ করে যাও। আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত।”

কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?
ঘটনা নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই প্রতিক্রিয়া দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। পুলিশের অনুমতি না পেলে কোর্টে যেতে পারতেন তাঁরা। বিরোধী দলনেতা হিসাবে আমাকে যখন আটকানো হয়েছে, তখন আমি আদালতে গিয়েছি। এখন আমার বিরোধী পক্ষও যাচ্ছেন আদালতে। দিল্লি হাই কোর্টে যেতে পারতেন। সংবিধানই চূড়ান্ত।’’


