Bengal Liberty, নয়াদিল্লি: SIR প্রত্যাহার, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)। ৯ এবং ১১ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ৯ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে SIR-বিরোধী আন্দোলন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা। সেই সময় তাঁদের আটক করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে CPI(M)।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে CPI(M)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা SIR প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ত্রুটিকে সামনে এনেছে। পাশাপাশি, ফর্ম ৬-এ বেআইনি সংশোধন এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যায় ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দল।
আরও খবর
এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে Electoral Registration Officer-দের আইননির্ধারিত ভূমিকা লঙ্ঘিত হওয়ার অভিযোগও তুলেছে CPI(M)।
দিল্লি পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ যে পদক্ষেপ করেছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। দলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। CPI(M)-এর দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, জমায়েত এবং মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে, যা সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অধিকারের পরিপন্থী।
দলের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন CPI(M)-এর একাধিক প্রবীণ নেতা, সাংসদ জন ব্রিটাস ও শিবদাসন এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের উপর অত্যাচার চালানো হয়। ছাত্রনেতাদের উপর হামলার অভিযোগও তুলেছে দল।

এমনকি, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকস্থল হরকিষণ সিং সুরজিৎ ভবনের ভিতরে পুলিশ জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ককক্রোচ জনতা পার্টির সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার পর প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার চত্বরে পুলিশ প্রবেশ করে এবং সাংবাদিক-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে বলে দাবি CPI(M)-এর।
বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীও আটক হন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মহিলা বিক্ষোভকারীদের যৌন হেনস্থার দৃশ্যও প্রকাশ্যে এসেছে বলে অভিযোগ করেছে দল।


