Bengal Liberty : কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে চড়া দামে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে টাকা হাতানোর অভিযোগে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের হয়েছিল। ফলে ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির সম্ভাবনা তৈরি হল। তবে চন্দননগর উৎসব সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। সেই মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ওই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মেলেনি। যদিও রাজ্যের দাবি, চন্দননগর উৎসব সংক্রান্ত মামলায় মূল অভিযুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু। যিনি গত বছর পর্যন্ত টালা প্রত্যয়ের পুজো কমিটির মাথা হওয়ার পাশাপাশি মাস আটের নামে ইউনেস্কোর লোগো অবৈধ ভাবে ব্যবহার করে আর্থিক দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ ।
পুজোর পাসে ১৪০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ
ইডির দাবি, ২০২২ সাল থেকে প্রায় তিন বছর ধরে দুর্গাপুজোর পাসের নামে বিপুল টাকা তোলা হয়েছিল। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই বৌবাজার থানার পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। এফআইআর-এর পরিপ্রেক্ষিতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী। সেই আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। সরকারি টেন্ডারের নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে বলে ইডি সূত্রে খবর। তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্দ্রনীলের বাড়ি, অফিস-সহ প্রায় ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের আরও দাবি, ইন্দ্রনীলের মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা পড়েছিল। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলেও ইডির দাবি। এই লেনদেনের সমর্থনে কিছু নথি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। এই রায়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিন খারিজ হওয়ার পর আইনজীবী অতনু ঘোষ বলেন, “দুর্গাপুজোর নাম করে আর্থিক বেনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না । আদালতের রায়ে আমরা খুশি, তাই আমরা এখানেই থেমে থাকব না ।”


