Bengal Liberty: ‘এই প্ল্যান্টের মধ্য দিয়ে আমরা আত্মনির্ভর ভারতের পথে আরও এক ধাপ এগোলাম।’ হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন ফেনল উৎপাদনকারী কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই প্রকল্পের হাত ধরে একদিকে যেমন আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে দেশ আরও এক ধাপ এগোল, তেমনই পশ্চিমবঙ্গেও শিল্পের প্রসার ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল।
শারদীয়ার চতুর্থীতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসে নতুন ফেনল প্ল্যান্টের উদ্বোধন হল। এই প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৪০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি, পরোক্ষভাবে আরও প্রায় এক হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, “আজ যে প্ল্যান্টের উদ্বোধন করলাম, এই উপাদান আগে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হত। আজ থেকে সেই নির্ভরতা কমবে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আত্মনির্ভর ভারতের পথে এগোচ্ছে দেশ। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসও সেই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।”
আরও খবর
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি ভারতের পূর্ব উপকূলে প্রথম ফেনল উৎপাদনকারী কারখানা। পাশাপাশি, দেশের প্রথম অন-পারপাস প্রোপিলিন ইউনিটও এই প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নতুন উৎপাদনকেন্দ্র চালু হওয়ায় ফেনল ও অ্যাসিটোনের ক্ষেত্রে বিদেশের উপর ভারতের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এই উৎপাদনকেন্দ্র চালু হওয়ায় বাংলার আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ভাতা-নির্ভর হয়ে গিয়েছি। এই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের আত্মনির্ভর বাংলা গড়তে হবে। এটাই আজ আমাদের শপথ নেওয়া উচিত।”
শিল্পের বিকাশে স্থানীয় দক্ষ কর্মীদের নিয়োগের উপরেও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। সিপেট, হলদিয়া হিট কলেজ এবং দুর্গাচক আইটিআই-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের শিল্পক্ষেত্রে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। বার্ন ইউনিট-সহ একটি আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আগামী জুন ২০২৭-এ হলদিয়ায় ট্রমা কেয়ার সেন্টারের উদ্বোধন হবে। সেখানে অত্যাধুনিক বার্ন ইউনিট থাকবে।”
এ ছাড়াও, নতুন ইউনিট গড়ে তোলার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য দ্য চ্যাটার্জি গ্রুপের চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, হলদিয়ার এই প্রকল্পকে রাসায়নিক শিল্পে ভারতের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী।


