Bengal Liberty: ভেরিফিকেশনে যোগ্য মহিলারাই পাবেন অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা। নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, ভেরিফিকেশনে যাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁদের সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে (Annapurna Bhandar)। পাশাপাশি চালু হবে অভিযোগ জানানোর পোর্টালও।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের অধীনে নিয়মিত আর্থিক সাহায্যপ্রাপ্তরা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাবেন না। আয়করদাতারাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। কোনও মহিলা নিজে মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করলে তাঁকেও ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে না। তবে কোনও পরিবারের পুরুষ সদস্য ক্যাজুয়াল বা কন্ট্রাকচুয়াল কর্মী হলে সেই পরিবারের মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের তালিকায় থাকতে পারবেন।

অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য কারা? (Annapurna Bhandar)
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, সরকার-পোষিত সংস্থা, পঞ্চায়েত ও পুরসভা, সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী এবং পেনশনভোগীরা এই যোজনার সুবিধা পাবেন না। যে পরিবার আয়কর দেয়, সেই পরিবারের সদস্যরাও এই আর্থিক সুবিধা পাবেন না। পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা হলেও অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধা মিলবে না।
আরও খবর
তবে কোনও সংস্থায় কর্মরত ঠিকা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা এই যোজনায় আবেদন করতে পারবেন। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যাঁরা ৩ হাজার টাকার কম কোনও ভাতা পান, যেমন বিধবা ভাতা বাবদ ১,৫০০ টাকা, তাঁরাও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে ৩ হাজার টাকার কম কোনও ভাতা পেলে সেই ভাতা এবং অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থই দেওয়া হবে (Annapurna Bhandar)।
দুটি ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। যাঁরা দিব্যাঙ্গ ভাতা পান, তাঁরা একইসঙ্গে দু’টি ভাতারই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষক পরিবারের মহিলা সদস্যরাও অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩ হাজার টাকা পাবেন।
তিন কক্ষবিশিষ্ট বাড়ি থাকলে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের অর্থ মিলবে না—এমন নিয়ম আগে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিজেপি সরকার (Annapurna Bhandar)
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বর্তমান রাজ্য সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে মহিলারা অন্য কোনও ভাতা পান এবং সেই ভাতার পরিমাণ ৩ হাজার টাকার কম, তাঁরা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাবেন।
তবে দুটি ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা দিব্যাঙ্গ ভাতা পান, তাঁরা দু’টি ভাতারই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেছেন, আগস্ট থেকে দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ ১,৫০০ টাকা করা হবে (Annapurna Bhandar)। প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া পিএম কিষান সম্মান নিধির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে।
গ্রামীণ এলাকার মহিলারা যাতে আরও বেশি সংখ্যায় এই প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগের নিয়মে গ্রামীণ এলাকায় তিনতলা বাড়ি থাকার কারণে অনেক মহিলা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। বর্তমানে সেই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
তবে সাতটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমির মালিকানা থাকলে সংশ্লিষ্ট মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। আগের তুলনায় এবার আরও বেশি সংখ্যক মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে দাবি সরকারের।

চালু অভিযোগ পোর্টাল (Annapurna Bhandar)
প্রকল্পের পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর জন্য একটি পোর্টাল চালু করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিধিবদ্ধ তালিকায় যোগ্য কোনও মহিলা বাদ পড়লে তিনি ওই পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। একইভাবে, কোনও অযোগ্য ব্যক্তি প্রকল্পের তালিকায় থাকলে বা টাকা পেলে তাঁর বিরুদ্ধেও পোর্টালে অভিযোগ জানানো যাবে।
উল্লেখ্য, এর আগে যোগ্য মহিলাদের একাংশ প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই নিয়ে একাধিক অভিযোগের মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভেরিফিকেশনে যোগ্য মহিলারা আগামী ১৭ আগস্টের পর থেকে ৩ হাজার টাকা পাবেন। প্রকৃত প্রাপকরাই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধা পাবেন বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জুলাই মাসে কয়েক লক্ষ মহিলা ৩ হাজার টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। যোগ্য মহিলারা আগস্ট থেকে প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর, কাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছয় অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩ হাজার টাকা।
আরো পড়ুন:-
https://bengalliberty.com/2026/08/12/cm-suvendu-adhikari-131/


