West Bengal BJP joining
Bengal Liberty, ৬ ডিসেম্বর, কলকাতা: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শাসক-বিরোধী সহ সমস্ত রাজনৈতিক দল নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত। কোথাও ঘর বদল, আবার কোথাও জার্সি বদলে পুনরায় পুরনো ঘরে প্রত্যাবর্তন। নির্বাচনের আগে এ যেন চিরাচরিত প্রথা। তবে এর বাইরেও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যাঁরা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত তাঁরাও চান রাজনীতিতে আসতে।
আজ, সোমবার সকাল থেকেই জল্পনা ছিল, রাজনীতির বাইরে থাকা কোন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যোগদান করতে চলেছে বঙ্গ বিজেপিতে (West Bengal BJP)। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এদিন দুপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহা (Rahul Sinha) ও রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদিকা তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের (Locket Chatterjee) হাত ধরে ৩ জন অরাজনৈতিক ব্যক্তির গেরুয়াকরণ হল আজ। সল্টলেকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে (Bhartiya Janta Party) দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করলেন সমাজের ভিন্ন স্তরে থাকা এই ৩ জন।

যোগদানের পূর্বে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী জানান,”বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) নেতৃত্বে রাজ্যে নতুন সদস্য নথিভুক্তকরণের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। প্রাথমিক সদস্য পদ দেওয়ার জন্য বুথ, মণ্ডল ও জেলা স্তরে স্ক্রুটিনি কমিটি তৈরি হয়েছে, যার দায়িত্বে রয়েছেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণি যেমন- অধ্যাপক, ডাক্তার, লেখক, অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক, সনাতন পরিবার, আদিবাসী পরিবারসহ বহু মানুষ বিজেপিতে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আজ তিন জন বিশিষ্ট নাগরিক—অজয় কুমার দাস, সঞ্জীব হাঁসদা এবং বঙ্কিম বিশ্বাস—দলে যোগ দিচ্ছেন।”
তিন যোগদানকারী অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কারা? (BJP West Bengal) (Suvendu Adhikari)
এদিন যোগদানকারী তিন জনের পরিচয়ও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমেই নাম প্রকাশ করেন অধ্যাপক অজয় কুমার দাসের। যিনি বিগত লোকসভা নির্বাচনে মথুরাপুর তফসিলি সংরক্ষিত আসনে আইএসএফ (ISF)- এর প্রার্থী ছিলেন। দ্বিতীয়, অধ্যাপক সঞ্জীব হাঁসদা, যিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর সমাজে কাজ করে আসছেন বহুদিন ধরে। তৃতীয়, পুলিশ আধিকারিক হুগলির বঙ্কিম বিশ্বাস, যিনি নিজের অবসরের আগেই শুধুমাত্র বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবেন বলে রাজ্য সরকারের কর্মচারী হয়েও নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বর্তমান যুগে পুলিশ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দলদাসে পরিণত হয়েছে তারই প্রতিবাদে তাঁর এই কঠিন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
বিরোধী দলনেতা বলেন , “বিজেপির লক্ষ্য ৩৯ শতাংশ ভোটকে ৫১ শতাংশে উন্নীত করা এবং ৫০ লক্ষ নতুন ভোট নিজেদের পক্ষে আনা, যাতে রাজ্যে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হয়।”
তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভপোষণ করে ইতিমধ্যে দলবদলের হিড়িক শুরু হয়েছে রাজ্যে। নির্বাচনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগদান রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
