Mamta Banerjee on Vande Mataram debate
Bengal Liberty Desk, ৮ ডিসেম্বর, কলকাতা: “যদি দল নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রশংসা না করে, তাহলে বিজেপি আসলে কাকে প্রশংসা করে”। বন্দে মাতরম নিয়ে যখন তুঙ্গে বিতর্ক, সেই আবহে একাধিক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamta Banerjee)। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রশংসা না করার বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য (Mamta Banerjee on Vande Mataram debate)
কলকাতায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বিজেপির কিছু লোককে বলতে শুনেছি যে তারা নেতাজিকে প্রশংসা করে না। আপনি নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজা রামমোহন রায়কে প্রশংসা করেন না, তাহলে আপনি কাকে প্রশংসা করেন?” তার পাশাপশি তিনি বলেন, “যদি দল নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রশংসা না করে, তাহলে বিজেপি আসলে কাকে প্রশংসা করে”।

লোকসভায় বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্কের সময়, কংগ্রেসের উপনেতা (Congress deputy Leader) গৌরব গগৈ(Gaurav Gogoi) প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী তার বেশিরভাগ বক্তৃতায় পণ্ডিত নেহরুর নাম ব্যবহার করেছেন এবং কংগ্রেসই বন্দে মাতরমকে গুরুত্ব দিয়েছে।
গৌরব গগৈর মন্তব্য (Gaurav Gogoi)
গৌরব গগৈ (Gaurav Gogoi) বলেন, ১৯০৫ সালের স্বদেশী আন্দোলনের আগে ১৮৯৬ সালে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুরেলা ভঙ্গিতে বন্দে মাতরম পরিবেশন করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্বে বন্দে মাতরম গাওয়া ও ব্যবহারের বহু উদাহরণ আছে।
লোকসভার এই উপনেতা নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যতই চেষ্টা করা হোক, পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর অবদান কলুষিত করার মতো একটি কালিমাও আরোপ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন “ভারতের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, আর এর কোনও উল্লেখ নেই। প্রধানমন্ত্রী মোদী একবারও দিল্লি বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করেননি। আমরা আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে পারছি না, দিল্লিতেও না, পহেলগামেও না। মানুষ শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না,”
প্রসঙ্গত, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে, জাতীয় বন্দনাগীতি ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে সোমবার লোকসভায় বিশেষ আলোচনার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যয় রচিত গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অধিবেশনে আলোচনা চলে। গানটির কিছু স্তবক বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিতর্ক শুরু হওয়ায় আলোচনার জন্য অধিবেশনে ১০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষে আলোচনায় যোগ দেবেন লোকসভার উপনেতা গৌরব গগৈ ও সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম’ গান। কিন্তু কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যুক্তি দেখিয়ে এই গানের পুনর্ব্যবহার নিয়ে সমঝোতা করেছিল। তারা এই গানের বিভাজন মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে ভারত বিভাজনের পথেও নত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরই শুরু হয় বিতর্ক। যা এখনও বিদ্যমান।
