Humayun Kabir
Bengal Liberty, ২১ এপ্রিল :
যে দল একসময় জান প্রাণ ছিল হুমায়ুন কবিরের, সেই দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন তিনি (Humayun Kabir)। এখানেই শেষ নয় পুলিশকেও কার্যত “তৃণমূলের দালাল” বলে কটাক্ষ করেন হুমায়ুন। আবার যে কর্মীরা হুমায়ুন অন্তপ্রাণ ছিলেন সেই কর্মীরাই হুমায়ুন দল ছাড়ার পর তাঁর শেষ লগ্নে প্রচারে “গো ব্যাক” স্লোগান তুললেন। আজ, মঙ্গলবার প্রচারের শেষ লগ্নে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের নওদা। সেখানে প্রথমত আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবির তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন পুলিশের সাথে। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে প্রচার রুখে দেওয়ারও অভিযোগও তোলেন তিনি। অবশেষে প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক (Humayun Kabir)।

পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসায় হুমায়ুন (Humayun Kabir)
মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে নওদা বিধানসভা এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে নামেন আম জনতা পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর প্রচার মিছিলের পথ আটকে দেয় পুলিশ এবং সমর্থকদের এগোতেও বাধা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি বচসায় জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন। প্রকাশ্যেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায় তাঁকে। পুলিশ কর্মীদের ধমক দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
শুধু ক্ষোভ প্রকাশেই থেমে থাকেননি হুমায়ুন। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তাঁদের ‘তৃণমূলের দালাল’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের নির্দেশেই পুলিশ বিরোধী প্রার্থীর প্রচারে বাধা দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই একের পর এক অভিযোগের তোপ দাগতে থাকেন হুমায়ুন।

ভোটের আগে নওদায় চরম উত্তেজনা (Humayun Kabir)
ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রচার কর্মসূচির জন্য আগে থেকে কোনও বৈধ অনুমতি নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে পুলিশের বক্তব্য। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়েই তাঁরা প্রচারে নেমেছিলেন, তবু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। হুমায়ুনের অভিযোগ, এটি নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা। তাঁর কথায়, “আমরা যথাযথ অনুমতি নিয়েই প্রচার করছি। তা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের আটকে দিচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল।”
এদিকে প্রথম দফার ভোটের প্রচারের নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার মধ্যেই হুমায়ুনের প্রচারে “গো ব্যাক” স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। একদিকে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং অপর দিকে তৃণমূল কর্মীদের স্লোগান সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রচার বেশ অস্বস্তিতে কাটল কবির বাবুর।
