Maoist Surrender
Bengal Liberty Desk, ৮ ডিসেম্বর, কলকাতা: মধ্যপ্রদেশে আত্মসমর্পণ ১০ মাওবাদীর (Maoists)। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদীরা। রবিবার বালাঘাটে মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের( Mohan Yadav) উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেছেন ১০ মাওবাদী নেতা ও কর্মী। যার মধ্যে ৪ জন মহিলাও ছিলেন।
সূত্রের খবর, এদিন এই মাওবাদীদের সাথেই আত্মসমর্পণ করেছেন কানহা-ভোরামদেও (KB) ডিভিশনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ কমান্ডার কবীর ওরফে সোম ওরফে সুরেন্দ্র। কেবি ডিভিশনের সাব-জ়োনাল কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন এই কবির। এছাড়া দরভা ডিভিশনের সামরিক প্রধানও ছিলেন তিনি।
কবিরের মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ টাকা। এ হেন নেতার আত্মসমর্পণকে বড় সাফল্য হিসাবেই দেখছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্টে রাজ্যের নতুন পুনর্বাসন নীতি চালু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রদেশে প্রথম অস্ত্র সমর্পণকারী বালাঘাটে আত্মসমর্পণ করেছিলেন মাওবাদী নেত্রী সুনীতা। প্রায় এক মাস আগেই তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তারপরই আবারও এক বড় সাফল্যের অধিকারী হলেন মধ্যপ্রদেশ সরকার। পুলিশ সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশ-ছত্তীসগঢ় (MMC) জোনে আত্মসমর্পণকারী ১০ নেতা-কর্মীর মাথার দাম সব মিলিয়ে ছিল ২ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা! তার মধ্যে কমান্ডার কবীরের মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ টাকা।আর এক আত্মসমর্পণকারী নেতা রাকেশ ওরফে মণীশেরও মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ টাকা। তিনিও বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। বাকিদের নাম লালসিং, শিল্পা, নবীন, জয়শীলা, বিক্রম, জ়ারিনা এবং সমর।
দ্বিতীয়বারের জন্য একসঙ্গে ১০ জন মাওবাদীরা আত্মসমর্পণকে ইতিবাচক নজরেই দেখছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। এমনকি, এই মাওবাদী দমন অভিযানে রাজ্যের পুলিশের সক্রিয়তাকে প্রশংসাও করেছেন তিনি। সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, ‘‘আগামী বছর থেকে মধ্যপ্রদেশের মাটিতে আর নকশালবাদের কোনও জায়গা থাকবে না। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে হয় ওঁরা আত্মসমর্পণ করবেন, নয়তো আমরা তাঁদের নিশ্চিহ্ন করে দেব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমাদের সঙ্কল্প হল দেশের মাটি থেকে নকশালবাদকে নির্মূল করা। গত দু’বছরে আমরা দিন্দোরি এবং মান্ডলাকে মাওবাদীমুক্ত করেছি। এখন বালাঘাটও সেই পথে হাঁটছে।’’
