mega gita path
Bengal Liberty: যা আমরা ধারণ করি তাই ধর্ম। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের মূল ধর্ম, তবে ধর্ম পালন হচ্ছে কী? ধর্ম মানুষকে রোজগারহীন করে দেয় আবার ধর্ম রোজগারের সংস্থান করে দেয়। তবে ধর্মে কি পেট চলে? ঠিক সেরকমই চিত্র দেখা গেল ব্রিগেডে ৫ লক্ষ কন্ঠে গীতা পাঠের ময়দানের বাইরে। বাংলায় চাকরি নেই, যুব সমাজের মাথায় বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন, তবে ব্রিগেডের ময়দানে গীতা পাঠের এই কর্মযজ্ঞে বেশ কিছু মানুষ পেয়েছে একদিনের একমুঠো বেশি ভাতের সংস্থান। এই ময়দানের বাইরেই দেখা গেছে বেশ কিছু নজিরবিহীন চিত্র। ৫ লক্ষ কন্ঠে গীতা পাঠ হলেও উপস্থিত প্রত্যেকের কন্ঠে একটাই কথা ‘পরিবর্তন আবশ্যিক’।
চাকরি নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের কপালে যখন চিন্তার ভাঁজ ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্রিগেডের ময়দানে দেখা মিলল এক ১২ বছরের শিশুর। যে ঘোড়া চালিয়ে মা বোনের পেটের ভাত জোগাড় করতে ব্যস্ত। ব্রিগেডের এই কর্মযজ্ঞ তাঁকে দিয়েছে একবেলার উপরি পাওনা। শুধু মাত্র এই ১২ বছরের শিশু না ময়দানের বাইরে উপস্থিত চা বিক্রেতা, চিপস বিক্রেতা থেকে শুরু করে পাপড়ি চাঁট মুড়ি বিক্রেতা সকলেই একই মন্তব্য করেন। পাশাপাশি উপড়ি লাভ করেছেন গীতা বিক্রেতারাও। এই ব্রিগেডের মঞ্চ তাঁদের কর্মসংস্থান করেছে বলে জানান তাঁরা।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি কতটা শোচনীয় তা স্পষ্ট উপস্থিত সনাতনী ও বিক্রেতাদের কন্ঠে। একটা পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পরিবর্তন চাইছেন সকলেই। ব্রিগেডের বাইরে উপস্থিত এক চা বিক্রেতা বলেন, “হিন্দু রাষ্ট্র করতে হবে”। গীতা পাঠ আগত বহুরূপী কৃষ্ণ বলেন, “ যেভাবে অসুর শক্তি চেপে বসেছে উন্নতি আনতে সেই অসুর শক্তি অবসান ঘটনা আবশ্যিক”। পাশাপাশি উপস্থিত কৃষ্ণভক্তরা বলেন , “আমরা দেবভূমিতে বসবাস করি, তাও চুরির তালিকা শুরু করলে শেষ হবে না, বাদ যায়নি হিন্দুদের পূজ্য গো মাতাও”।
একদিনের কর্মসংস্থানে খুশি নয় কেউই। কবে পাবে কাজ? আদৌ কি পাবে কাজ? উত্তর খুঁজতে গেলে ময়দানের বাইরে উপস্থিত এক সনাতনী ব্যবসায়ী বলেন, “ ধর্ম বাঁচাতে হবে, যে রামকে আনবে সেই কর্ম দেবে”। অন্ধকারে ছেয়ে গেছে রাজ্য, গীতা পাঠে উপস্থিত যুব সমাজের একটাই আশা, ২৬ এ এবার দিনের আলো ফুটবে। একপেটা ভাত খেয়ে দিন যাপন করতে হবে না তাঁদের।
পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশই বাংলাদেশের রূপ ধারণ করতে পারে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ থেকে আগত এক ব্যক্তি। তিনি এদেশেও আশঙ্কিত। ঢাকা থেকে আগত ওই ব্যক্তি ভীতি প্রদর্শন করে বলেন, পরিবর্তন না আসলে এদেশ থেকেও চলে যেতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু ক্রমশ সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, “ জানোয়ার দুনিয়ায় সব জায়গায় জানোয়ার”।
শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকে আগত ব্যক্তিই নয় পশ্চিমবঙ্গবাসী চাইছে একটা পরিবর্তন। একদিনের রুটি না দুবেলা পেট পুরে ভাত চাইছেন সকলে। একটা ছক্কা তারপরই “ভারত আবার জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে” ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে আশা প্রকাশ করলেন শত শত মানুষ।
