Messi in Kolkata
Bengal Liberty: বিবেকানন্দ বলেছিলেন,“গীতা পাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা শ্রেয়”। সেই বিশ্ববরেণ্য স্বামী বিবেকানন্দের ঠাঁই হয়েছে ফুটবলার মেসির ঝকঝকে গগনচুম্বী মূর্তির পাদদেশে। বিতর্কে আয়োজক সংস্থা।কলকাতার ভিআইপি রোডে বসেছে মেসির ৭০ ফুট উঁচু মূর্তি। এই মূর্তিটি তৈরির দায়িত্ব নিয়েছিল শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। ফুটবলের রাজপুত্রের এই গগনচুম্বী মূর্তি দেখে আপ্লুত মেসি স্বয়ং। কিন্তু এই মূর্তি ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মেসির এই বৃহতাকার মূর্তির নিচেই আছে আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক বিবেকানন্দের মূর্তি। এই কর্মকান্ডকে ‘ বাংলার লজ্জা ‘ বলে সরব হয়েছে সাধারণ মানুষ(Messi statue in controversy)।
মেসির কলকাতা সফর(Messi statue in controversy)
শনিবার থেকে শুরু হয়েছে লিওনেল মেসির ভারত সফর। প্রথম দিনই তিনি বেছে নিয়েছিলেন কলকাতাকে যদিও সেই সফরের অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত। শনিবারই কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ফুটবলের রাজপুত্রকে দেখতে না পাওয়ার অভিযোগে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চড়া দামে টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে আসা দর্শকরা নেতা মন্ত্রীদের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়। মেসি কলকাতায় আসার আগেই তৈরি হয়েছিল এই বিশালাকার মূর্তি। সেই মূর্তি মেসি ভারচুয়ালি উন্মোচনও করেন। কলকাতার ভিআইপি রোডে বসানো এই মূর্তি দেখে আপ্লুত হয়েছেন মেসি নিজেই। মূর্তি উন্মোচনের সময় তিনি বলেন, ‘এই স্বীকৃতির জন্য ধন্যবাদ।’
বিতর্কের বৃত্তান্ত (Messi statue in controversy)
মাত্র ৪০ দিনে তৈরি হয়েছিল আকাশছোঁয়া এই মূর্তি। শিল্পী মন্টি পালের নেতৃত্ব শ্রীভূমির সভাপতি সুজিত বসুর চেষ্টায় এবং উদ্যোগে মূর্তিটি তৈরি হয়। তবে, বিতর্ক দানা বাঁধতেও বেশি সময় লাগেনি। কিন্তু সেই মূর্তির পায়ের কাছেই দেশকে যিনি বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিল সেই স্বামীজির মূর্তি। তাই নেটপাড়া জুড়ে বিতর্ক। অনেকেই বলছেন এ ‘বাঙালির লজ্জা’।
একজন নেটিজেন লিখেছেন,“ লিওনেল মেসি একজন ভালো ফুটবলার, তা বলার অবকাশ রাখে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের কিছু উন্মাদ যুবসমাজ ভোট টানার জন্য লিওনেল মেসির মূর্তি তৈরি করেছে এবং সেখানে স্বামী বিবেকানন্দের ঠাঁই হয়েছে মেসির পায়ের নীচে।”
এই চিত্র সামনে আসার সাথে সাথে ফুটবল প্রেমী, মেসি প্রেমী থেকে শুরু করে সকলেই ‘ বাংলার লজ্জা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে এই বিতর্কের পাশাপাশি শনিবার শহর কলকাতায় যা ঘটল তা নিয়েও চর্চা চলছে বিস্তর।জানা গিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সম্বর্ধনা জানাবেন। থাকবেন শাহরুখও কিন্তু সবটাই চোখের নিমেষে শেষ হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চান আন্তর্জাতিক তারকা লিওনেল মেসির কাছে। তাছাড়াও শাহরুখ খান দীর্ঘসময় যুবভারতীর বাইরে থেকেও, ঢুকতে পারেননি স্টেডিয়ামে। মেসিকেও তড়িঘড়ি মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দর্শকদের কষ্টের টাকার সবটাই বৃথা, কারণ অনেকে চোখের দেখাটাও দেখতে পেলেন না মেসিকে।
লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনার মূল কান্ডারি ছিলেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। আয়োজকদের কাছে টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
