Suvendu Adhikari
Bengal Liberty Desk, ২৫ ডিসেম্বর, কলকাতা: কোচবিহারের মাথাভাঙায় সংঘর্ষে বাবা–ছেলের মৃত্যু ঘিরে এবার রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। নিহত মানব সরকার ও তাঁর ছেলে যাদব সরকারের মৃত্যু নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটিকে ‘গ্রাম্য বা পারিবারিক বিবাদ’ বলে অরাজনৈতিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।

শুভেন্দুর বক্তব্য (Suvendu Adhikari)
রাজ্য বিজেপির প্রধান কার্যালয়, ৬ মুরলীধর সেন লেন-এ বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ এলাকায় র্যাফ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে ‘প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করছে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে দিচ্ছে না। তাঁর দাবি, প্রথমে বিজেপির স্থানীয় নেতারা আহতদের বাড়িতে যেতে পারলেও পরে পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে দলের নেতাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেয়।
বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, নিহত মানব সরকার বিজেপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ওই এলাকার মণ্ডল যুব মোর্চার সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি নিহতদের বিজেপি সদস্যপদের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও প্রকাশ করেন। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচিত কর্মী।
হত্যাকাণ্ডের বৃত্তান্ত
জানা গেছে, মাথাভাঙার হাজরাহাট এলাকায় সরকার পরিবারের সঙ্গে শিকদার পরিবারের সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, ধারাল অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালানো হয় সরকার পরিবারের উপর। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় মানব সরকার ও তাঁর ছেলে যাদব সরকারের। পাশাপাশি গুরুতর জখম হন সরকার পরিবারের আরও ছ’জন সদস্য।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্ত চললেও, ঘটনার চরিত্র নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
পোস্ট পোল নিয়ে গুরুতর মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। ৬১ টা সিবিআই মামলা হয়েছে তার মধ্যে ১০ টা শুধু নদিয়া জেলায় । ১৫ জন কে নোটোরিয়াস ক্রিমিনাল বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বিস্ফোরক মন্তব্য বিরোধী দলনেতার। নোটোরিয়াস ক্রিমিনালদের মধ্যে উদয়ন গুহ-রা ছিলেন বলেন তিনি। আরও বলেন “বীরভূম,কোচবিহার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা তে কুক্ষাত গুন্ডারা সেদিনও সক্রিয় ছিল আজও সক্রিয়।”
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের উত্তরে একের পর এক তীব্র আক্রমন করেন শাসক দলের বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে প্রাক্তন সাংসদ তথা তৃণমূলনেত্রী মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীদের সঙ্গে শান্তনুর অনুগামীদের অশান্তিতে মমতাবালা অভিযোগ দায়ের করেন। এপ্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা তীব্র আক্রমন করে বলেন, ” এটা মতুয়া দ্বন্দ্ব নয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কেস হওয়া উচিত ছিল শান্তনু বা তাঁর অনুগামীরা যা করেছে বেশ করেছে, আরও করা উচিত ছিল।” এছাড়া এদিন এই বৈঠকে তিনি ” জয় বাংলা বাংলাদেশের শ্লোগান” অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন।
রাজ্যের সার্বিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়ছে। সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
