Tarique Rahman
Bengal Liberty Desk, ২৫ ডিসেম্বর, কলকাতা: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন তাকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে (Tarique Rahman), তখন বাইরে অপেক্ষমান লক্ষ লক্ষ মানুষের গগনবিদারী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
তারেকের ঘরে ফেরা (Tarique Rahman)
তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন নিছক কোনো রাজনৈতিক খবর নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে এখন সারা দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ, আর দলের তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে সঞ্চারিত হয়েছে নতুন প্রাণের স্পন্দন।
২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। এরপর নানা চড়াই-উতরাই, আইনি লড়াই এবং নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে তার এই ফিরে আসা বিএনপির রাজনীতিতে শুধু যে স্বস্তি এনেছে তা নয়, বরং দলটিকে নতুন করে রাষ্ট্রক্ষমতার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তন
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে তারেক রহমান যখন জনতার সামনে এসে দাঁড়ান, তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে অভিবাদন জানান তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখে তিনি প্রথমেই স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত রাজপথ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। দলীয় পতাকায় সজ্জিত হয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে তাকে বরণ করে নেয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিএনপির রাজনীতিতে নতুন আশার আলো
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি দেখছে “গণতন্ত্রের বিজয়” হিসেবে। গত দেড় দশকে অসংখ্য মামলা, জেল-জুলুম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া দলটির জন্য তিনি ছিলেন দূরদেশ থেকে আসা এক আলোকবর্তিকা। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করে তিনি যেভাবে তৃণমূলকে সুসংগঠিত রেখেছেন, তার সরাসরি উপস্থিতি সেই শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তৃণমূলের সাথে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। এখন তিনি সরাসরি মাঠে নামলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে।

খালেদা-পুত্রের হাত ধরে আগামীর পথচলা
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা এবং বয়সের কারণে দলের একক নেতৃত্ব এখন তারেক রহমানের কাঁধে। তারুণ্যদীপ্ত এই নেতার আধুনিক চিন্তাভাবনা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের পাল্টা ‘মেরামতের রূপরেখা’ তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ সমাদৃত হয়েছে। বিশেষ করে জাইমা রহমানের উপস্থিতিও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বারবার “জনগণের শাসন” এবং “রাষ্ট্র সংস্কারের” কথা বলেছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনের ফলে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, তিনি হয়তো একটি স্থিতিশীল এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
১৭ বছর পর ফিরলেও তারেক রহমানের সামনে পথটা খুব মসৃণ নয়। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসন করা হবে তার প্রথম কাজ। তবে বিএনপির সাধারণ কর্মীরা বিশ্বাস করেন, তাদের “তারুণ্যের অহংকার” সব বাধা ডিঙিয়ে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যাবেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল একটি দলের নেতার ফিরে আসা নয়, বরং এটি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক নতুন বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক দরবারে কীভাবে উপস্থাপন করেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির মেরুকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের বিচ্ছিন্নতা শেষে যখন পুত্র তার মায়ের পাশে দাঁড়ালেন এবং নেতা তার কর্মীদের মাঝে ফিরলেন, তখন সেই দৃশ্যটি ছিল অভূতপূর্ব। বিএনপি এখন নতুন করে আশায় বুক বাঁধছে, আর সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছে এক নতুন ভোরের প্রতীক্ষায়।
