Lagnajita and Iman Durga maa songs
Bengal Liberty Desk, ২৯ ডিসেম্বর, কলকাতা: একদিকে পূর্ব মেদিনীপুরে ‘জাগো মা’ গান গাওয়ায় মঞ্চে উঠে হেনস্থার শিকার লগ্নজিতা চক্রবর্তী অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টা, সেকুলার গান না গাইলে মারার হুমকি। থানায় অভিযোগ জানানো হলেও এফআইআর পর্যন্ত হয়নি! পুলিশ চুপ, শাসকদল নীরব! (Lagnajita and Iman Durga maa songs) রাজ্যে এটাই কি শিল্পীর স্বাধীনতা? সঙ্গীত শিল্পীদের গানের মধ্যে সেকুলারিজম খুঁজছে ‘ সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী’ শাসকদল?
রাজ্যের অন্য প্রান্তে কী ছবি? (Lagnajita and Iman Durga maa songs)
আর ঠিক সেই সময়েই ছবিটা পাল্টে যাচ্ছে রাজ্যের অন্য প্রান্তে। আজ নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সামনেই

গায়িকা ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty) গাইলেন ‘আই গিরি নন্দিনী’, মাতোয়ারা হল মঞ্চ। এখানে কোনও আপত্তি নেই, কোনও বাধা নেই, কোনও ‘সেকুলার গান’-এর চাপ নেই, গায়ে হাত তোলার হুমকিও নেই!
মজার বিষয়, দুই ক্ষেত্রেই গান ছিল মা দুর্গাকে কেন্দ্র করে কিন্তু প্রতিক্রিয়ার ব্যবধান যেন আকাশ-পাতাল। এক শিল্পী লগ্নজিতা ‘জাগো মা’ গাইলেন এবং তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল ।
অথচ কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই ইমন চক্রবর্তী নির্ভয়ে গাইলেন ‘ আই গিরি নন্দিনী’, কেউ বাধা দিতে সাহসই পেল না। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, এক মহিলা শিল্পী রাজ্যের অন্য জেলায় ‘জাগো মা’ গাইলেই অপমান, হেনস্থা আর অন্য শিল্পী ‘আই গিরি নন্দিনী’ গাইলে হাততালি? বিশেষ করে যখন সরকার নিজেই নারীশক্তির কথা বলে, দুর্গা অঙ্গন তৈরি করে, শিল্পীদের সম্মান দেওয়ার দাবি তোলে, সঙ্গীতশিল্পীদের সাথে এই দ্বিচারিতা?
এক রাজ্যে দু’ধরনের নিয়ম কেন? শিল্পী যদি স্বাধীন হন তবে সবার জন্য নয় কেন? মঞ্চে গান নির্বাচনও কি রাজনৈতিক রঙে বিচার হবে? উঠছে প্রশ্ন ।
অনেকেই বলছেন যদি মা দুর্গার গানই সমস্যা হয়, তবে ইমন চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে আপত্তি দেখা গেল না কেন? আর যদি সমস্যা না হয়, তাহলে লগ্নজিতাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকেরই।
TMC কি সত্যিই ‘শিল্পের স্বাধীনতা’তে বিশ্বাস করে, নাকি পরিস্থিতি অনুযায়ী পাল্টায় রং?
