Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar
Bengal Liberty, kolkata: দিল্লির নির্বাচন কমিশনে বৈঠক সেরে বেরিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ‘অপমান’ ও ‘দুর্ব্যবহার’-এর অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে নির্বাচন কমিশন(Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) স্পষ্ট জানায় – SIR প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না, আইন ভাঙলেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১৫ জন। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকের পর কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়া হয়নি এবং কমিশনের আচরণ ছিল ‘জমিদারি মানসিকতার’ পরিচায়ক।

নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar)
কমিশনের তরফে জারি করা বিবৃতিতে ‘অপমান’ সংক্রান্ত অভিযোগের কোনও উল্লেখ নেই। বরং কমিশন জানায়, মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল প্রতিনিধি দল SIR সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন তোলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার(Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) সমস্ত প্রশ্নেরই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
একইসঙ্গে কমিশন পালটা অভিযোগ তোলে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশন এবং বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ও হুমকিমূলক মন্তব্য করছেন। বিবৃতিতে জানানো হয়, ইআরও (এসডিও/বিডিও)-দের অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং SIR কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের নাম না করে বিডিও অফিস ভাঙচুর ও কুরুচিকর মন্তব্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছে কমিশন।

আইন না মানলে কঠোর শাস্তি হবে (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar)
নির্বাচন কমিশন (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar)স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় বা SIR প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে, তবে সংবিধান অনুযায়ী কমিশনের হাতে থাকা সমস্ত আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। SIR কাজে যুক্ত আধিকারিক, ইআরও, এআরও ও বিএলও-দের উপর কোনও ধরনের চাপ, বাধা বা হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
কমিশনের তরফে বিবৃতি (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar)
বিএলও-দের জন্য নির্ধারিত ১৮ হাজার টাকার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) সঙ্গে পরামর্শ না করেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিনজন নির্বাচনী তালিকা পর্যবেক্ষককে বদলি করেছে। এই বদলি আদেশ বাতিলের জন্য কমিশন ২৭.০১.২০২৬ তারিখে রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়াও চারজন আধিকারিক এবং এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর করার অনুরোধ রাজ্য সরকার মানেনি বলেও অভিযোগ কমিশনের।
উল্লেখ্য, বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তিনি মাঝপথেই বৈঠক ‘বয়কট’ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এত অহংকারী নির্বাচন কমিশন(Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) তিনি আগে দেখেননি এবং কমিশন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে। তবে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট—আইনের শাসন বজায় থাকবে, SIR একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং তাতে কোনও রাজনৈতিক চাপ বা হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
