India road to T20 glory
Bengal Liberty, কলকাতা :
টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ এ ভারতের জয় জয়কার নিউজিল্যান্ড কে ৯৬ রানে হারিয়ে তিন বার টি২০ বিশ্বকাপ জিতে নিলো সূর্যকুমাররা আহমেবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে শুধুই বন্দেমাতরম(India road to T20 glory)। এর আগে ২০০৭ মহেন্দ্র সিং ধোনি আর তারপরে ১৭ বছর পর ২০২৪ এ রোহিত শর্মার নেতৃত্বে বার্বাডোস এর মাটিতে ভারত আবারো বিশ্বকাপ জেতে। ২০২৪ এর লেগেসি ২০২৬ সেও বহন করে নিয়ে গেছেন সূর্য কুমার যাদব আর গৌতম গম্ভীর সূর্যর নেতৃত্বে ভারত এখনো অবধি কোনো টি২০ সিরিজ হারেনি অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড যেকোনো দলকে যেকোনো জায়গাই পরাজিত করেছে টিমের মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে ভয় দরহিন ব্যাটিং, বোলিং পারফরমেন্স।
অভিষেক শর্মা, বরুন চক্রভার্টি, তিলক ভর্মা, ঈশান কিষান, ওয়াশিংটোন সুন্দর, সঞ্জু স্যামসন দের মতো নতুন নতুন ছেলেদের সুযোগ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এই অপরাজিত দল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা সবসময় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার তার মধ্যে আগের শিরোপা কে ধরে রাখাও মস্ত বড়ো কঠিন পরীক্ষা তাহলে দেখে নেওয়া যাক কি করে অসম্ভব কে সম্ভব করে দেখালো মেন ইন ব্লু বাহিনী।

রোড টু গ্লোরি পার্ট – ১ গ্রুপ স্টেজ :
টি২০ বিশ্বকাপে মত ২০টি দল খেলেছিল ৪ তে গ্রুপে ভাগ করে প্রত্যেক গ্রুপে ৫টি করে দল ছিল ৫টির মধ্যে প্রথম দুই দল সুপার এইটস স্টেজ কোয়ালিফাই করবে। ভারত গ্রুপ – এ তে ছিল তার সাথে চিরপ্রতিদ্বান্ডি পাকিস্তান, উইএসএ, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ছিল।
প্রথম ম্যাচ প্রতিপক্ষ উইএসএ – ৭ ফেব্রুয়ারী :
প্রথম ম্যাচেই ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল গত বিশ্বকাপের চমকপদ দল আমেরিকা যারা পাকিস্তান কে হারিয়ে সুপার এইটস কোয়ালিফাই করেছিল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম মুম্বাই তে মেন ইন ব্লুর আগমন শুরু কিন্তু প্রথম ম্যাচেই মুশকিল পড়েগেছিলো ভারত একসময় ৭৭ – ৬ উইকেট স্কোর ছিল সেখান থেকে সূর্য কুমার যাদভের ৪৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেই ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৬১-৯ জবাবে ব্যাট করতে নেমে কিছুই করতে পারেনি মোনাঙ্ক পাটেলরা ২৯ রানে জয়ী হয় ভারত প্লেয়ার অফ দা ম্যাচ – অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব

দ্বিতীয় ম্যাচ প্রতিপক্ষ নামিবিয়া – ১২ ফেব্রুয়ারী :
দ্বিতীয় ম্যাচে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে নেমেছিল ভারত অরুন জেটলি স্টেডিয়াম দিল্লিতে খুব সহজ ভাবেই জয় তুলে নেয় ভারত ঈশান কিষানের ৬১ আর হার্দিক পান্ডিয়ার ৫২ রানের উপর বর করেই ভারত ২০৯ – ৯ উইকেটে বানান ভারতের শক্তিশালী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি মাত্র ১১৬ রানে অল আউট হয়েযায় নামিবিয়া ৯৩ রানে জয়ী হয় ভারত বোল হাতেও কামাল হার্দিকের ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলেনেন
প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – হার্দিক পান্ডিয়া
তৃতীয় ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান – ১৫ ফেব্রুয়ারী :
১৫ ফেব্রুয়ারী আর প্রেমেডাসা স্টেডিয়াম কলম্বো তে মহা ম্যাচ মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বান্ডি ভারত পাকিস্তান শুধুই ম্যাচ কে গিরে চরম উন্মাদনা তারি মধ্যে ম্যাচ খেলা কে কেন্দ্র করে ভুহু ড্রামা করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আঘা কিন্তু প্রত্যেকবার ফল একই থাকে এবারেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি টস জিতে ফিল্ডিং নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আঘা বেশ হইটুকু প্রাপ্তি তারপরে ঈশান কিষানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে উড়ে যাই পাকিস্তান বোলিং এটাক ৪০ বলে ৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৫ – ৭। তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাই পাকিস্তানের ব্যাটিং শুধু মাত্র উসমান খানের ৪৪ রানের ইনিংস ১১৪ রানে ঘুটিয়ে যাই পাকিস্তানী শিবির বোল হাতে হার্দিক, বুমরাহ, আক্সার, বরুন অন্যবোদ শেষ মেশ ভারত ৬১ রানে জয়যুক্ত হয় সুপার এইটস সহজেই প্রবেশ নিশ্চিত করে ভারত। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – ঈশান কিষান।

চতুর্থ ম্যাচ প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস – ১৮ ফেব্রুয়ারী :
সুপার এইটস প্রবেশ করার পর গ্রুপ পর্যাইয়ের শেষ ম্যাচে কমলা বাহিনী নেদারল্যান্ডস এর মুখোমুখি হয়েছিল ভারত আহমেদবের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ প্রথমে ব্যাট করে ভারতের শুরু মনের মতো হয়নি সেকানে আগমন হয় শিবম ডুবের তার ৩১ বলে ৬৬ রানের মার্কাটারি ব্যাটিংয়ের উপর ভর করেই ভারত ২০ ওভারে ১৯৩ রান ৬ উইকেট অবধি পৌঁছায় জবাবে ব্যাট করতে নেমে বেশ ভালোই খেলেছে ম্যাক্স, লেভিত্ৰা ১৭৬ রান ৭ উইকেট অবধি কোনো মতে পৌঁছায় কমলা বাহিনী বোল হাতে কামাল বরুন ও শিবমের ১৭ রানে জয় তুলে নেয় ভারত। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – শিবম ডুবে
রোড টু গ্লোরি পার্ট ২ – সুপার এইটস :
সুপার এইটস গ্রুপ – ১ ভারতের সামনে ছিল কঠিন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্টাইনডিস আর প্রতিযোগিতার চমক জিম্বাবোয়ে।
সুপার এইটস এর প্রথমে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা আহমেদাবাদ স্টেডিয়াম।
সুপার এইটস প্রথম প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা – ২২ ফেব্রুয়ারী :
সুপার এইটসের প্রথম ম্যাচেই লজ্জার হার হয় ভারতের ৭৬ রানের বড়ো মার্জিন ভারত কে উড়িয়ে দেই দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে একসময় ২০ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে চালকের আসনে ছিল ভারত তারপরেই শুরু হয় দ্যা কিলার মিলার শো ডেভিড মিলারের ৩৫ বলে ৬৩ রান আর ত্রিস্তান স্টুবব্স এর ৪৪ রানের উপর জোর দিয়েই প্রোটিয়াস রা ১৮৭ রান – ৭ উইকেটে বানান বোল হাতে দুর্দান্ত যাস্প্রিট বুমরাহ ১৫ রান দিয়ে তুলেনেন তিনটি বড়ো উইকেট ব্যাটিং মারাত্মক ভাবে ফ্লপ সবাই ১১১ রানেই ঘুটিয়ে যাই ভারতের ইনিংস ডুবে একা লড়াই দেন এই ম্যাচ হেরে প্রশ্নের মুখে পরে টিমের স্ট্রাটেজি রান রেট মাইনাস চলে যাই সেমিতে যাওয়ার রাস্তাই দাঁড়িয়ে যাই ট্রেন এরপরে ট্রেন কি চলবে?

সুপার এইটস দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে – ২৬ ফেব্রুয়ারী :
চেন্নাইয়ের গুর্নি ম্যাচে প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে সেই জিম্বাবোয়ে যারা প্রতিযোগিতার শক্ত দুই দল কে পরাজিত করেছে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বড়ো জয় তুলে নিলেও শেষ মেশ হারতে হয় টীম ইন্ডিয়ার সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিরুদ্ধে জয় তুলেনেই প্রোটিয়াস বাহিনী সেই কারণেই সেমির রাস্তা খোলা ছিল ভারতের কাছে প্রথমে ব্যাটিং করে ২৫৬ রানের বিশাল বড়ো স্কোর করাই ভারত অভিষেকের ৫৫, হার্দিকের ৫০ রানের উপরেই ভারত বড়ো স্কোর ধার করাই জবাবে জিম্বাবোয়ে ১৮৪ – ৬ উইকেট অবধি পৌঁছায় বৃয়ান বেঁনেটের অনবদ্ধ ৯৭ রানের সাক্ষী রইলো চেপক ৭২ রানে জয়ী হয় ভারত। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – হার্দিক পান্ডিয়া
সুপার এইটস তৃতীয় প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ মার্চ :
সুপার এইটস এর শেষ ম্যাচে দাঁড়িয়ে ভারত ইতি মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকা টেবিল টপ করে সেমিতে প্রবেশ করেছে মাস্ট উইন ম্যাচে রিঙ্কুকে সরিয়ে টিমে আনা হয় সঞ্জু স্যামসন কে যে জিতবে সেহি দল সেমি ফাইনালে প্রবেশ করবে হাই ভোল্টেজ ম্যাচ গিরে ক্রিকেটের নন্দন কাননে চড়ছে পারদ এই সবের মধ্যে রিঙ্কু সিং নিজের বাবা কে হারান কিন্তু নিজের যন্ত্রনা ভুলে টিমের সাথে যোগ দেন এই তরুণ বা হাতি ব্যাটার। এই সবের মধ্যে প্রেস কনফারেন্স ওয়েস্ট ইন্ডিসের কোচ দ্যারেন স্যামির উক্তি ” আমাদের দলে ১১ জন প্লেয়ার রাই বিপর্যনক ” তার এই কথাটি একদমেই ধোপে টিকলো না। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৫ রান ৪ উইকেট খুয়ে বানান হোল্ডার, পাওয়াল আর রোস্টনের রানের দরুন ক্যারিব্বেনরা এই রান অবধি পৌঁছায় বোল হাতে আবারো বেমিশাল বুমরাহ তিনি দুটো উইকেট তুলেনেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কেউই তেমন বড়ো রান পাননি সঞ্জুর ঝোড়ো ৯৭ রানের কাদের উপর চোরেই ভারত ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তাঁরা করেন। সঞ্জু the সেভিয়র এর আগমন ঘটে টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – সঞ্জু স্যামসন
রোড টু গ্লোরি পার্ট – ৩ : সেমিফাইনাল :
সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো ৪টি দল গ্রুপ – ১ থেকে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা আর গ্রুপ – ২ ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ড
* দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম নিউজিল্যান্ড – সেমিফাইনাল ১ ( কলকাতা )
* ভারত বনাম ইংল্যান্ড – সেমিফাইনাল ২ ( মুম্বাই )
প্রথম সেমিফাইনালে প্রতিযোগিতার সব থেকে শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকা কে ৯ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড ফিন – সেইফর্ট এর জুটিতে জয় তুলেনেই ব্ল্যাকচাপ্সরা।
সেমিফাইনাল ২ প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ৫ মার্চ :
দ্বিতীয় সেমিফাইনাল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি ভারত বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে শুরুর আগে দর্শকদের চুপ করিয়ে দেবেন বলেছিলেন ইংল্যান্ডের অল – রাউন্ডার স্যাম কারান কিন্তু তার ওলোট পরান চোখে পড়লো ম্যাচে ক্রিকেট খেলার জন্মাদাতা ইংল্যান্ড কিন্তু ক্রিকেট খেলাকে শাসন, সমৃদ্ধি করছে ভারত সেটা ইংল্যান্ড ভুলে গেছে
সে ২০০২ লর্ডস সৌরভ গাঙ্গুলির জার্সি উড়ানো হোক বা সম্প্রীতি টেস্ট সিরিজ ভালো ফল করা সব জায়গাইতে এগিয়ে আছে ভারত ম্যাচে ফেরা যাক টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রক তারপরে সঞ্জুর বিধ্বংশী ব্যাটিংয়ের জোরেই ভারত ২৫৩ রান অবধি পৌঁছায় ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতেই পর পর উইকেটের পতন দেখা যাই একমাত্র ইয়ং জ্যাকব ব্যাথালের দুর্দান্ত ১০৫ রানের দরুন ইংল্যান্ড ২৪৬ রান ৭ উইকেট খুয়ে বানান ৭ রানে জয়ী হয় ভারত টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রবেশ করে হার্দিক, বুমরা , আক্সার, ডুবের খেরামতির জন্যই ইংল্যান্ডের থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত বিশ্বকাপের শেষ প্রজাইয়ে মুখোমুখি ভারত ও নিউজিল্যান্ড। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – সঞ্জু স্যামসন ( ৮৯ রান )
রোড টু গ্লোরি পার্ট – ৪ : ফাইনাল :
একে একে সব টিমের বিদায়ের পর টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড আহমেদাবাদ নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম ১ লক্ষো ২০ হাজার মানুষের সামনে তৃতীয় বার ট্রফি জেতার সুযোগ ম্যাচের আগেই অন্য খেলায় মেতেছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার আমরা দর্শকদের চুপ করিয়ে দেবো ” এই কথাটি ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক পাট কাম্মিস তখন সেই কথা সত্যি হয়েছিল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েগেছিলো ভারতীয়দের মন কিন্তু বার বার কেন একই কথা ঘুরে ফিরে আসছে ভারত যখন বাইরে কোথাও খেলতে যাই তখন কি এই ধরনের মন্তব্য করে? তাহলে কেন স্যাম কারান,স্যান্টনার রা একই কথা বার বার বলেন কাপ কেক বিজ্ঞাপন নিয়েও অনেক কথা উঠেছিল শেষ অবধি দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় সব কথা বন্ধ করে দেই ভারতের অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব এর বার্তা ” বার বার কেন একই কথা বলেন নতুন কিছু নেয় ” মগজের খেলা না খেলে ক্রিকেটে মন দিয়ে খেলে ভালো হয় এমনটাই মত অনেকের চলুন এইবার ফাইনালের কথায় আশা যাক।

ফাইনাল প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ৮ মার্চ :
ফাইনাল ম্যাচ গিরে চরম উন্মাদনা সমর্থকদের মধ্যে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামর বাইরে লম্বা লাইন চোখে পড়েছে দূরদুরন্ত থেকে একটাই দাবি তিন এ তিন করতেই হবে ভুলতে হবে ২০২৩ এর ফাইনালের অভিশাপ। টস জিতে ফিল্ডিং নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক তারপরেই পুরো ম্যাচে ভারত নিজের দাপট দেখায় পুরোনো ছন্দে অভিষেক শর্মা ৫২ রানের জরুরি ইনিংস তার সাথে ঈশানের ৫৪ রান আর সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রানের বিধ্বংশী ব্যাটিংয়ের জেরে ভারত ২০ ওভারে ২৫৫ রান করে দিশেহারা নিউজিল্যান্ড বোলিং। জবাবে ব্যাট কররে নেমে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৫৯ রানে অল আউট ব্ল্যাকচাপ্স শেষ অবধি কাড়া চুপ করলো সেটা গোটা ক্রিকেট মহল দেখলো শেষমেশ ৯৬ রানে তৃতীয় বারের জন্য টি২০ বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলো মেন ইন ব্লু বাহিনী প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – যাস্প্রিট বুমরাহ ৪ উইকেট নিয়ে শেষ করে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস একমাত্র টিম সাইফার্ট ৫০ রানের গন্ডি পেরোন এ ছাড়া সবাই ব্যর্থ ।
টীম ইন্ডিয়ার এই জয় শুধু জয় নয় এই জয় ভুজিয়ে দিলো আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেট কোন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবার চটকরে দেখে নেওয়া যাক কে কোন পুরষ্কার ফেলো।
পুরষ্কারের তালিকা :
* সর্বাদিক রান – সাহিবজাদা ফারহান : ৩৮৩ রান
* *আরামকো প্লেয়ার অফ দ্যা সিরিজ : সঞ্জু স্যামসন ৩২১ রান
*
* বেশি শতরান – সাহিবজাদা ফারহান : দুটি শতরান
* সর্বাধিক উইকেট – যাস্প্রিট বুমরা : ১৪টি উইকেট
কোন কোন রেকর্ড ভারত ভাঙলো :
* আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়
* ঘরের মাঠে প্রথম বার টি২০ বিশ্বকাপ জেতা
* নিউজিল্যান্ড কে প্রথম বারের জন্য টি২০ বিশ্বকাপে পরাজিত করা
* প্রথম দল হিসেবে তিন বার বিশ্বকাপ জেতা
শেষ হলো এবারের মতো টি২০ বিশ্বকাপ এরপর আরও অনেককিছু অপেক্ষা করছে ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য নজর থাকবে সেইদিকেই।
এর মাটিতে ভারত আবারো বিশ্বকাপ জেতে। ২০২৪ এর লেগেসি ২০২৬ সেও বহন করে নিয়ে গেছেন সূর্য কুমার যাদব আর গৌতম গম্ভীর সূর্যর নেতৃত্বে ভারত এখনো অবধি কোনো টি২০ সিরিজ হারেনি অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড যেকোনো দলকে যেকোনো জায়গাই পরাজিত করেছে টিমের মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে ভয় দরহিন ব্যাটিং, বোলিং পারফরমেন্স। অভিষেক শর্মা, বরুন চক্রভার্টি, তিলক ভর্মা, ঈশান কিষান, ওয়াশিংটোন সুন্দর, সঞ্জু স্যামসন দের মতো নতুন নতুন ছেলেদের সুযোগ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এই অপরাজিত দল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা সবসময় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার তার মধ্যে আগের শিরোপা কে ধরে রাখাও মস্ত বড়ো কঠিন পরীক্ষা তাহলে দেখে নেওয়া যাক কি করে অসম্ভব কে সম্ভব করে দেখালো মেন ইন ব্লু বাহিনী।

রোড টু গ্লোরি পার্ট – ১ গ্রুপ স্টেজ :
টি২০ বিশ্বকাপে মত ২০টি দল খেলেছিল ৪ তে গ্রুপে ভাগ করে প্রত্যেক গ্রুপে ৫টি করে দল ছিল ৫টির মধ্যে প্রথম দুই দল সুপার এইটস স্টেজ কোয়ালিফাই করবে। ভারত গ্রুপ – এ তে ছিল তার সাথে চিরপ্রতিদ্বান্ডি পাকিস্তান, উইএসএ, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ছিল।
প্রথম ম্যাচ প্রতিপক্ষ উইএসএ – ৭ ফেব্রুয়ারী :
প্রথম ম্যাচেই ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল গত বিশ্বকাপের চমকপদ দল আমেরিকা যারা পাকিস্তান কে হারিয়ে সুপার এইটস কোয়ালিফাই করেছিল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম মুম্বাই তে মেন ইন ব্লুর আগমন শুরু কিন্তু প্রথম ম্যাচেই মুশকিল পড়েগেছিলো ভারত একসময় ৭৭ – ৬ উইকেট স্কোর ছিল সেখান থেকে সূর্য কুমার যাদভের ৪৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেই ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৬১-৯ জবাবে ব্যাট করতে নেমে কিছুই করতে পারেনি মোনাঙ্ক পাটেলরা ২৯ রানে জয়ী হয় ভারত প্লেয়ার অফ দা ম্যাচ – অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব
দ্বিতীয় ম্যাচ প্রতিপক্ষ নামিবিয়া – ১২ ফেব্রুয়ারী :
দ্বিতীয় ম্যাচে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে নেমেছিল ভারত অরুন জেটলি স্টেডিয়াম দিল্লিতে খুব সহজ ভাবেই জয় তুলে নেয় ভারত ঈশান কিষানের ৬১ আর হার্দিক পান্ডিয়ার ৫২ রানের উপর বর করেই ভারত ২০৯ – ৯ উইকেটে বানান ভারতের শক্তিশালী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি মাত্র ১১৬ রানে অল আউট হয়েযায় নামিবিয়া ৯৩ রানে জয়ী হয় ভারত বোল হাতেও কামাল হার্দিকের ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলেনেন
প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – হার্দিক পান্ডিয়া
তৃতীয় ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান – ১৫ ফেব্রুয়ারী :
১৫ ফেব্রুয়ারী আর প্রেমেডাসা স্টেডিয়াম কলম্বো তে মহা ম্যাচ মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বান্ডি ভারত পাকিস্তান শুধুই ম্যাচ কে গিরে চরম উন্মাদনা তারি মধ্যে ম্যাচ খেলা কে কেন্দ্র করে ভুহু ড্রামা করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আঘা কিন্তু প্রত্যেকবার ফল একই থাকে এবারেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি টস জিতে ফিল্ডিং নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আঘা বেশ হইটুকু প্রাপ্তি তারপরে ঈশান কিষানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে উড়ে যাই পাকিস্তান বোলিং এটাক ৪০ বলে ৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৫ – ৭। তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাই পাকিস্তানের ব্যাটিং শুধু মাত্র উসমান খানের ৪৪ রানের ইনিংস ১১৪ রানে ঘুটিয়ে যাই পাকিস্তানী শিবির বোল হাতে হার্দিক, বুমরাহ, আক্সার, বরুন অন্যবোদ শেষ মেশ ভারত ৬১ রানে জয়যুক্ত হয় সুপার এইটস সহজেই প্রবেশ নিশ্চিত করে ভারত। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – ঈশান কিষান।
চতুর্থ ম্যাচ প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস – ১৮ ফেব্রুয়ারী :
সুপার এইটস প্রবেশ করার পর গ্রুপ পর্যাইয়ের শেষ ম্যাচে কমলা বাহিনী নেদারল্যান্ডস এর মুখোমুখি হয়েছিল ভারত আহমেদবের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ প্রথমে ব্যাট করে ভারতের শুরু মনের মতো হয়নি সেকানে আগমন হয় শিবম ডুবের তার ৩১ বলে ৬৬ রানের মার্কাটারি ব্যাটিংয়ের উপর ভর করেই ভারত ২০ ওভারে ১৯৩ রান ৬ উইকেট অবধি পৌঁছায় জবাবে ব্যাট করতে নেমে বেশ ভালোই খেলেছে ম্যাক্স, লেভিত্ৰা ১৭৬ রান ৭ উইকেট অবধি কোনো মতে পৌঁছায় কমলা বাহিনী বোল হাতে কামাল বরুন ও শিবমের ১৭ রানে জয় তুলে নেয় ভারত।
প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – শিবম ডুবে
রোড টু গ্লোরি পার্ট ২ – সুপার এইটস :
সুপার এইটস গ্রুপ – ১ ভারতের সামনে ছিল কঠিন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্টাইনডিস আর প্রতিযোগিতার চমক জিম্বাবোয়ে।
সুপার এইটস এর প্রথমে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা আহমেদাবাদ স্টেডিয়াম।
সুপার এইটস প্রথম প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা – ২২ ফেব্রুয়ারী :
সুপার এইটসের প্রথম ম্যাচেই লজ্জার হার হয় ভারতের ৭৬ রানের বড়ো মার্জিন ভারত কে উড়িয়ে দেই দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে একসময় ২০ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে চালকের আসনে ছিল ভারত তারপরেই শুরু হয় দ্যা কিলার মিলার শো ডেভিড মিলারের ৩৫ বলে ৬৩ রান আর ত্রিস্তান স্টুবব্স এর ৪৪ রানের উপর জোর দিয়েই প্রোটিয়াস রা ১৮৭ রান – ৭ উইকেটে বানান বোল হাতে দুর্দান্ত যাস্প্রিট বুমরাহ ১৫ রান দিয়ে তুলেনেন তিনটি বড়ো উইকেট ব্যাটিং মারাত্মক ভাবে ফ্লপ সবাই ১১১ রানেই ঘুটিয়ে যাই ভারতের ইনিংস ডুবে একা লড়াই দেন এই ম্যাচ হেরে প্রশ্নের মুখে পরে টিমের স্ট্রাটেজি রান রেট মাইনাস চলে যাই সেমিতে যাওয়ার রাস্তাই দাঁড়িয়ে যাই ট্রেন এরপরে ট্রেন কি চলবে?
সুপার এইটস দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে – ২৬ ফেব্রুয়ারী :
চেন্নাইয়ের গুর্নি ম্যাচে প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে সেই জিম্বাবোয়ে যারা প্রতিযোগিতার শক্ত দুই দল কে পরাজিত করেছে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বড়ো জয় তুলে নিলেও শেষ মেশ হারতে হয় টীম ইন্ডিয়ার সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিরুদ্ধে জয় তুলেনেই প্রোটিয়াস বাহিনী সেই কারণেই সেমির রাস্তা খোলা ছিল ভারতের কাছে প্রথমে ব্যাটিং করে ২৫৬ রানের বিশাল বড়ো স্কোর দার করাই ভারত অভিষেকের ৫৫, হার্দিকের ৫০ রানের উপরেই ভারত বড়ো স্কোর ধার করাই জবাবে জিম্বাবোয়ে ১৮৪ – ৬ উইকেট অবধি পৌঁছায় বৃয়ান বেঁনেটের অনবদ্ধ ৯৭ রানের সাক্ষী রইলো চেপক ৭২ রানে জয়ী হয় ভারত। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – হার্দিক পান্ডিয়া
সুপার এইটস তৃতীয় প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ মার্চ :
সুপার এইটস এর শেষ ম্যাচে দাঁড়িয়ে ভারত ইতি মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকা টেবিল টপ করে সেমিতে প্রবেশ করেছে মাস্ট উইন ম্যাচে রিঙ্কুকে সরিয়ে টিমে আনা হয় সঞ্জু স্যামসন কে যে জিতবে সেহি দল সেমি ফাইনালে প্রবেশ করবে হাই ভোল্টেজ ম্যাচ গিরে ক্রিকেটের নন্দন কাননে চড়ছে পারদ এই সবের মধ্যে রিঙ্কু সিং নিজের বাবা কে হারান কিন্তু নিজের যন্ত্রনা ভুলে টিমের সাথে যোগ দেন এই তরুণ বা হাতি ব্যাটার। এই সবের মধ্যে প্রেস কনফারেন্স ওয়েস্ট ইন্ডিসের কোচ দ্যারেন স্যামির উক্তি ” আমাদের দলে ১১ জন প্লেয়ার রাই বিপর্যনক ” তার এই কথাটি একদমেই ধোপে টিকলো না। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৫ রান ৪ উইকেট খুয়ে বানান হোল্ডার, পাওয়াল আর রোস্টনের রানের দরুন ক্যারিব্বেন রা এই রান অবধি পৌঁছায় বোল হাতে আবারো বেমিশাল বুমরাহ তিনি দুটো উইকেট তুলেনেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কেউই তেমন বড়ো রান পাননি সঞ্জুর ঝোড়ো ৯৭ রানের কাদের উপর চোরেই ভারত ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তাঁরা করেন। সঞ্জু the সেভিয়র এর আগমন ঘটে টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – সঞ্জু স্যামসন
রোড টু গ্লোরি পার্ট – ৩ : সেমিফাইনাল
সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো ৪টি দল গ্রুপ – ১ থেকে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা আর গ্রুপ – ২ ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ড
* দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম নিউজিল্যান্ড – সেমিফাইনাল ১ ( কলকাতা )
* ভারত বনাম ইংল্যান্ড – সেমিফাইনাল ২ ( মুম্বাই )
প্রথম সেমিফাইনালে প্রতিযোগিতার সব থেকে শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকা কে ৯ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড ফিন – সেইফর্ট এর জুটিতে জয় তুলেনেই ব্ল্যাকচাপ্সরা।
সেমিফাইনাল ২ প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ৫ মার্চ :
দ্বিতীয় সেমিফাইনাল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি ভারত বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে শুরুর আগে দর্শকদের চুপ করিয়ে দেবেন বলেছিলেন ইংল্যান্ডের অল – রাউন্ডার স্যাম কারান কিন্তু তার ওলোট পরান চোখে পড়লো ম্যাচে ক্রিকেট খেলার জন্মাদাতা ইংল্যান্ড কিন্তু ক্রিকেট খেলাকে শাসন, সমৃদ্ধি করছে ভারত সেটা ইংল্যান্ড ভুলে গেছে সে ২০০২ লর্ডস সৌরভ গাঙ্গুলির জার্সি উড়ানো হোক বা সম্প্রীতি টেস্ট সিরিজ ভালো ফল করা সব জায়গাইতে এগিয়ে আছে ভারত
ম্যাচে ফেরা যাক টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রক তারপরে সঞ্জুর বিধ্বংশী ব্যাটিংয়ের জোরেই ভারত ২৫৩ রান অবধি পৌঁছায় ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতেই পর পর উইকেটের পতন দেখা যাই একমাত্র ইয়ং জ্যাকব ব্যাথালের দুর্দান্ত ১০৫ রানের দরুন ইংল্যান্ড ২৪৬ রান ৭ উইকেট খুয়ে বানান ৭ রানে জয়ী হয় ভারত টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রবেশ করে হার্দিক, বুমরা , আক্সার, ডুবের খেরামতির জন্যই ইংল্যান্ডের থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত বিশ্বকাপের শেষ প্রজাইয়ে মুখোমুখি ভারত ও নিউজিল্যান্ড।
প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – সঞ্জু স্যামসন ( ৮৯ রান )
রোড টু গ্লোরি পার্ট – ৪ : ফাইনাল
একে একে সব টিমের বিদায়ের পর টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড আহমেদাবাদ নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষের সামনে তৃতীয় বার ট্রফি জেতার সুযোগ ম্যাচের আগেই অন্য খেলায় মেতেছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার “আমরা দর্শকদের চুপ করিয়ে দেবো ” এই কথাটি ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক পাট কাম্মিস, তখন সেই কথা সত্যি হয়েছিল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েগেছিলো ভারতীয়দের মন কিন্তু বার বার কেন একই কথা ঘুরে ফিরে আসছে ভারত যখন বাইরে কোথাও খেলতে যাই তখন কি এই ধরনের মন্তব্য করে? তাহলে কেন স্যাম কারান,স্যান্টনার রা একই কথা বার বার বলেন কাপ কেক বিজ্ঞাপন নিয়েও অনেক কথা উঠেছিল। শেষ অবধি দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় সব কথা বন্ধ করে দেই ভারতের অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব এর বার্তা ” বার বার কেন একই কথা বলেন নতুন কিছু নেয় ” মগজের খেলা না খেলে ক্রিকেটে মন দিয়ে খেলে ভালো হয় এমনটাই মত অনেকের। এইবার ফাইনালের কথায় আসা যাক।
ফাইনাল প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ৮ মার্চ :
ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে চরম উন্মাদনা সমর্থকদের মধ্যে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামর বাইরে লম্বা লাইন চোখে পড়েছে দূর দূরান্ত থেকে একটাই দাবি তিন এ তিন করতেই হবে ভুলতে হবে ২০২৩ এর ফাইনালের অভিশাপ। টস জিতে ফিল্ডিং নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক তারপরেই পুরো ম্যাচে ভারত নিজের দাপট দেখায় পুরোনো ছন্দে অভিষেক শর্মা ৫২ রানের জরুরি ইনিংস তার সাথে ঈশানের ৫৪ রান আর সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রানের বিধ্বংশী ব্যাটিংয়ের জেরে ভারত ২০ ওভারে ২৫৫ রান করে দিশেহারা নিউজিল্যান্ড বোলিং। জবাবে ব্যাট কররে নেমে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৫৯ রানে অল আউট ব্ল্যাকচাপ্স শেষ অবধি কাড়া চুপ করলো সেটা গোটা ক্রিকেট মহল দেখলো শেষমেশ ৯৬ রানে তৃতীয় বারের জন্য টি২০ বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলো মেন ইন ব্লু বাহিনী প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ – যাস্প্রিট বুমরাহ ৪ উইকেট নিয়ে শেষ করে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস একমাত্র টিম সাইফার্ট ৫০ রানের গন্ডি পেরোন এ ছাড়া সবাই ব্যর্থ । টীম ইন্ডিয়ার এই জয় শুধু জয় নয় এই জয় ভুজিয়ে দিলো আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেট কোন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবার চটকরে দেখে নেওয়া যাক কে কোন পুরুষ্কার ফেলো।
পুরস্কারের তালিকা :
* সর্বাধিক রান – সাহিবজাদা ফারহান : ৩৮৩ রান
*আরামকো প্লেয়ার অফ দ্যা সিরিজ : সঞ্জু স্যামসন ৩২১ রান
* বেশি শতরান – সাহিবজাদা ফারহান : দুটি শতরান
* সর্বাদিক উইকেট – যাস্প্রিট বুমরা : ১৪টি উইকেট
কোন কোন রেকর্ড ভারত ভাঙলো :
* আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়
* ঘরের মাঠে প্রথম বার টি২০ বিশ্বকাপ জেতা
* নিউজিল্যান্ড কে প্রথম বারের জন্য টি২০ বিশ্বকাপে পরাজিত করা
* প্রথম দল হিসেবে তিন বার বিশ্বকাপ জেতা
শেষ হলো এবারের মতো টি২০ বিশ্বকাপ এরপর আরও অনেককিছু অপেক্ষা করছে ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য নজর থাকবে সেইদিকেই।
