Sayantan Sinha Biswas Controversy
Bengal Liberty Desk, ৯ মার্চ, কলকাতা: রাজ্যের পুলিশ মহলে এখন এক গভীর আতঙ্কের নাম ‘থ্রেট কালচার’। আর এই সংস্কৃতির মূল পান্ডা হিসেবে উঠে আসছে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং তাঁর পুত্র সায়ন্তন সিনহা বিশ্বাসের নাম। অভিযোগ উঠেছে, স্বয়ং তৃণমূলের পুলিশ মন্ত্রীর অদৃশ্য আশীর্বাদে এই পুলিশ-পুত্র এখন প্রশাসনের সমান্তরাল এক শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছেন। অভিযোগ, বারংবার নিজের বাবার পদমর্যাদা আর রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে ঢাল করছে সায়ন্তন। সাম্প্রতিক ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে সায়ন্তন সিনহা বিশ্বাসের গাড়ি আটকান এক ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট। বদলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বদলি করে দেওয়া হয় ওই সার্জেন্টকে। তাই খোদ পুলিশই এখন ‘থ্রেট কালচারের’ শিকার, স্বীকার করছেন পুলিশের একাংশ (Sayantan Sinha Biswas Controversy)।
পুলিশ মন্ত্রীর ‘ছায়া’ ও দুর্নীতির মহোৎসব (Sayantan Sinha Biswas Controversy)!

সূত্রের খবর, লালবাজারের অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এক ট্রাফিক সার্জেন্টের অসহায়তার কথা। দেশপ্রিয় পার্কের কাছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার অপরাধে সায়ন্তনের গাড়ি আটকান সাউথ – ইস্ট ট্র্যাফিক গার্ডের এক সার্জেন্ট। অভিযোগ শুধুমাত্র ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে সেই সার্জেন্টকে লালবাজারের ডিআরওতে (DRO) শাস্তিমূলক বদলি করানো হয়েছে। এই ঘটনা পুলিশের নীচুতলার কর্মীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও ভয়ের সঞ্চার করেছে। পুলিশ মহলের একাংশ ক্ষোভের সুরে বলছেন, “আমরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেব কী করে, যখন খোদ পুলিশ মন্ত্রীর ছায়ায় থাকা এক ছোকরার হাতে আমাদের সম্মান ও চাকরি-দুটোই বিপন্ন?” দাবি করা হয়েছে, সায়ন্তন সিনহা বিশ্বাসের এই বাড়বাড়ন্তের মূলে রয়েছে প্রশাসনিক শীর্ষস্তরের মৌন সম্মতি।
জাল NRI কোটা ও কেন্দ্রীয় তদন্ত (Sayantan Sinha Biswas Controversy)
কেপিসি মেডিকেল কলেজে ভুয়ো এনআরআই কোটায় এমবিবিএসে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে কয়লা পাচার- সর্বত্র সায়ন্তনের অবাধ বিচরণ। ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI)-এর একাধিকবার তলব সত্ত্বেও কোন জাদুবলে সে এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সকলেই। বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী যখন নিজেই দুর্নীতির রক্ষাকর্তা, তখন সায়ন্তনের মতো অপরাধীরা তো রাজকীয় বিলাসিতায় গা ভাসাবেই!
আরজি কর ও সোনা পাপ্পু কানেকশন (Sayantan Sinha Biswas Controversy)
এখানেই শেষ নয় অভিযোগের তির আরও গভীরে। কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর ডান হাত হিসেবে পরিচিত এই সায়ন্তনের নাম জড়িয়েছে আরজি করের ন্যক্কারজনক ঘটনাতেও। অপরাধ জগতের সঙ্গে এই নিবিড় যোগসূত্র কি পুলিশ মন্ত্রীর অজান্তে সম্ভব? প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন (Sayantan Sinha Biswas Controversy)-
240 Companies of Central Forces Deployed: পুলিশে নেই আস্থা, বঙ্গে আজই আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী
West Bengal Police: গোলামী নয়, মাথা উঁচু করে বাঁচতে মরিয়া পুলিশ কর্মীরা,পোস্টাল ভোট লুঠের ছক বানচাল
চূড়ান্ত বিলাসিতার প্রতিচ্ছবি (Sayantan Sinha Biswas Controversy)
খাকির আড়ালে জমিদারি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ৪ সদস্যের পরিবারের জন্য ৬টি বিলাসবহুল ভিভিআইপি (VVIP) গাড়ি, ১২ জন চালক এবং ২০ জনের বেশি সিকিউরিটি গার্ড। এ যেন এক আধুনিক যুগের জমিদারি। সবথেকে লজ্জাজনক বিষয় হল, সরকারি বেতনে নিযুক্ত ৬ জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে দিয়ে বাড়ির ব্যক্তিগত কাজ করানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এভাবেই ‘থ্রেট কালচারের’ ধারক-বাহকদের সেবায় অপচয় করা হচ্ছে? বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সায়ন্তন সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা এই পর্বতপ্রমাণ অভিযোগ প্রমাণ করে যে, নবান্নের প্রশ্রয়েই আজ খাকি উর্দির মান-সম্মান ধুলোয় মিশছে। এই অশুভ আঁতাতের শেষ কোথায়, এখন সেটাই দেখার।
