(Belgharia fake currency racket)
Bengal liberty desk, ১০ মার্চ, কলকাতা :
বাড়ির অন্দরে বসত মদের আসর, সেইসঙ্গে চলত রাশিয়ান বেলিড্যান্সারদের উদ্দাম নাচ (Belgharia fake currency racket)। উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়ার শরৎপল্লির একটি আবাসনে দীর্ঘকাল ধরেই চলত এমন রহস্যময় পার্টি। এলাকার প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছিল সেখানে। প্রতিবেশীরা ফিসফাস করলেও আঁচ পাননি যে এই আভিজাত্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক আন্তর্জাতিক জালিয়াতির কারবার। অবশেষে নেপাল পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের অভিযানে পর্দাফাঁস হলো কামারহাটির সেই ‘ধনী’ দম্পতির।

জালিয়াতির ছক: টাকা দ্বিগুণ করার মোহ (Belgharia fake currency racket)
ধৃত অরিন্দম ধর এবং তাঁর স্ত্রী দীপা ধরকে নেপাল থেকে প্রায় ৭০ কোটি টাকার জালনোটসহ গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। তদন্তকারীদের দাবি, এই দম্পতির প্রতারণার পদ্ধতি ছিল অভিনব। তাঁরা বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীদের ভিডিয়ো কল করতেন। এরপর লোহা বা কাঠের ট্রাঙ্ক ভর্তি কোটি কোটি জালনোট দেখিয়ে দাবি করতেন, তাঁদের বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগ করলে অল্প সময়েই টাকা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। টাকার পাহাড় দেখে অনেক ব্যবসায়ীই সেই ফাঁদে পা দিতেন।

বিলাসবহুল জীবন ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র (Belgharia fake currency racket)
২০২৪ সালে নেপালে যাওয়ার পর থেকেই মূলত এই কারবার ফুলে-ফেঁপে ওঠে। নেপাল এবং ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় এক বিশাল জাল বিছিয়েছিলেন অরিন্দম ও দীপা। ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে:
লোহার ট্রাঙ্ক ভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা (তদন্ত চলছে আসল না কি নকল), ১২টি দামি মোবাইল ফোন, বিলাসবহুল গাড়ি,আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের হদিস।
নেপালের গোয়েন্দাদের হাতে ধৃত মোট সাতজনের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিকও রয়েছেন। নেপাল থেকে পালিয়ে বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে গা-ঢাকা দিলেও শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার ভোরে নেপাল ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ হানায় শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে তাঁদের।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: কামারহাটির সম্মান নিয়ে প্রশ্ন
এই গ্রেফতারির পর শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। কামারহাটির সিপিএম নেতা সায়নদীপ মিত্র শাসকদলকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “কারও খাটের তলা থেকে ভারতীয় টাকা মিলছে, আবার কারও বাড়ি থেকে নেপালের জালনোট। কামারহাটির মানুষের দুর্ভাগ্য যে এলাকায় এমন সব ‘গুণী’ মানুষের বাস বাড়ছে।” স্থানীয় নেতাদের সাথে এই দম্পতির যোগাযোগের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কোথা থেকে এত বিপুল পরিমাণ নিখুঁত জালনোট ধৃতদের কাছে এল, তা জানতে মরিয়া তদন্তকারীরা। এর পেছনে কোনো বড় আন্তর্জাতিক গ্যাং বা জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগসূত্র আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
