Bhabanipur election 2026
Bengal Liberty Desk, ২০ মার্চ, কলকাতা: আজ, শুক্রবারের রাজনৈতিক মঞ্চে স্পষ্ট বার্তা দিল শাসকদল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও পরিকাঠামো-এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার রণকৌশল প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে ধরলেন দলের নির্বাচনী ইস্তেহার, ‘১০ প্রতিজ্ঞা’। কী কী প্রতিজ্ঞা করলেন ইস্তেহারে?
নারী স্বনির্ভরতায় আরও জোর (Mamata10 Promises Manifesto)

রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতির মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পান। ভবিষ্যতেও এই প্রকল্প চালু রাখা, প্রয়োজনে সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং আরও বেশি সংখ্যক মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
যুবকদের জীবিকা ও আর্থিক সুরক্ষা (Mamata10 Promises Manifesto)
বেকার যুবসমাজের জন্য ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক ভাতা চালু রয়েছে, যা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি বাড়ানো এবং ছোট ও মাঝারি উদ্যোগে যুবকদের যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষি বাজেট (Mamata10 Promises Manifesto)

কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ কৃষি বাজেটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে কৃষিঋণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং ভূমিহীন কৃষকদের জন্য সহায়ক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সবার জন্য পাকা বাড়ির নিশ্চয়তা (Mamata10 Promises Manifesto)
‘বাংলা আবাস যোজনা’-র মাধ্যমে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ বাড়ি তৈরি হয়েছে। বাকি থাকা পরিবারগুলিকেও দ্রুত পাকা বাড়ির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “রাজ্যে কোনও মানুষ কাঁচা বাড়িতে থাকবে না”।
ঘরে ঘরে পানীয় জল
রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের কাছে নিরাপদ ও পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু এলাকায় এই পরিষেবা পৌঁছেছে, ভবিষ্যতে তা শতভাগ নিশ্চিত করতে অবকাঠামো আরও উন্নত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে প্রতি বছর ব্লক ও শহর স্তরে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির আয়োজন করা হবে। এতে প্রাথমিক চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যাবে।
শিক্ষায় আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন
‘বাংলার শিক্ষায়তন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো আধুনিক করা হবে। স্মার্ট ক্লাসরুম, উন্নত ল্যাবরেটরি, নতুন ভবন নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য ও শিল্পে নতুন দিশা
বাংলাকে পূর্ব ভারতের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে লজিস্টিকস, বন্দর, শিল্পাঞ্চল এবং একটি গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এই প্রতিশ্রুতির মূল লক্ষ্য।
প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার
বর্তমানে চালু থাকা বার্ধক্য ভাতার প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও বেশি প্রবীণ নাগরিককে এই ভাতার আওতায় আনা হবে এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও বিকেন্দ্রীকরণ
প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ৭টি নতুন জেলা গঠন করা হবে। পাশাপাশি পুরসভার সংখ্যা বৃদ্ধি করে স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিষেবা প্রদান দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে দাবি শাসকদলের।
আরও পড়ুন-
TMC Manifesto 2026: প্রতিশ্রুতির মোড়কে মোড়া ইস্তেহার প্রকাশ তৃণমূলের, ‘মিথ্যার ঝুড়ি’ তোপ শুভেন্দুর
নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমণ

ইস্তেহার প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের একাধিক আমলা ও পুলিশকর্তার বদলি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় কার্যত “ঘোষিত প্রেসিডেন্ট রুল” চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোটে জিততে অস্ত্র ও টাকার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারে বিজেপি। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে মমতা বলেন, প্রলোভন বা ভয় দেখানোয় যেন কেউ প্রভাবিত না হন এবং শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখেন।
এই ইস্তেহারের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্টভাবে উন্নয়ন ও জনকল্যাণকেই নির্বাচনের মূল ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। পুরনো প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রতিশ্রুতির সংযোজন—এই দুইয়ের মিশেলেই ভোটারদের আস্থা অর্জনের কৌশল নিয়েছে শাসক দল।
