India flight fare hike
Bengal liberty desk, ২২ মার্চ :
সাধারণ বিমানযাত্রীদের জন্য দুঃসংবাদ (India flight fare hike)। আগামী সপ্তাহ থেকেই এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়তে পারে বিমানভাড়ার খরচ। সোমবার (২৩শে মার্চ) থেকেই অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবায় টিকিটের দামের ওপর থাকা অস্থায়ী সর্বোচ্চ সীমা (Fare Cap) প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে উড়ান সংস্থাগুলি এখন থেকে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের মতো করে টিকিটের দাম নির্ধারণ করতে পারবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত? India flight fare hike
গত বছর ইন্ডিগো-র পরিষেবা বিপর্যয়ের সময় বিমানভাড়া আকাশছোঁয়া হতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে টিকিটের দাম বেঁধে দিয়েছিল অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বিমানের জ্বালানি বা এটিএফ (ATF)-এর দাম হুহু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উড়ান সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’ লোকসান কমাতে কেন্দ্রের কাছে দরবার করেছিল। সেই আর্তিতেই সাড়া দিয়ে সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এপ্রিল থেকেই বড় বদলের ইঙ্গিত:
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন যে, ১লা এপ্রিল থেকে বিমানভাড়ায় বড়সড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কারণ, প্রতি মাসের প্রথম দিনেই বিমানের জ্বালানির দাম নির্ধারিত হয়। জ্বালানি সারচার্জ এবং অপারেশনাল খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং আকাসা এয়ারের মতো সংস্থাগুলি ইতিমধ্য়েই ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে।
আগের ভাড়ার সীমা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
গত ডিসেম্বর থেকে দূরত্ব অনুযায়ী টিকিটের সর্বোচ্চ ভাড়া ৭,৫০০ টাকা থেকে ১৮,০০০ টাকার মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যেমন:
৫০০ কিমি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল ৭,৫০০ টাকা।
১০০০ কিমি পর্যন্ত ছিল ১২,০০০ টাকা।
১৫০০ কিমির বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ টাকা নেওয়া যেত।
সোমবার থেকে এই বিধিনিষেধ আর থাকছে না। তবে কেন্দ্র সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোনও সংস্থা যেন অযৌক্তিক ভাবে ভাড়া না বাড়ায় এবং যাত্রীস্বার্থের দিকে নজর রাখে।
জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস:
ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও দেশের জ্বালানি সুরক্ষা নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল হলেও ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং দেশের রিফাইনারিগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। বিদেশ মন্ত্রক, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক যৌথভাবে এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
যাত্রীদের ওপর প্রভাব:
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচলে এমনিই সমস্যা হচ্ছে। এবার দেশের অভ্যন্তরেও ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ উঠে যাওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্তের কাছে বিমানযাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে চলেছে।
