Raghav Chadha removed
Bengal liberty desk, ৩ এপ্রিল :
আম আদমি পার্টি (আপ)-র অন্দরে কি বড়সড় কোনও ফাটল ধরল? Raghav Chadha removed রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড়। রাঘবের পরিবর্তে পঞ্জাবের সাংসদ অশোক মিত্তলকে এই দায়িত্ব দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পদ হারানোর পর রাঘব সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে জল্পনা আরও উসকে দিয়েছেন।

রাঘবের ‘নজর’ ইমোজি ও রহস্যময় ভিডিও Raghav Chadha removed
পদ থেকে অপসারিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাঘব চাড্ডা তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি তিন মিনিটের ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে সংসদে তাঁর তোলা বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক ইস্যু—যেমন গিগ কর্মীদের অধিকার, মোবাইল রিচার্জের মেয়াদ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি কোনও শব্দ খরচ না করে শুধু একটি ‘নজর’ ইমোজি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে তিনি হয়তো নিজেকে ‘অশুভ শক্তি’ থেকে আড়াল করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
কেন এই অপসারণ? Raghav Chadha removed
যদিও দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ জানায়নি, তবে গত কয়েক মাস ধরেই দলের মূল লাইন থেকে রাঘবের দূরত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
রহস্যময় নীরবতা: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লি আবগারি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়া খালাস পাওয়ার পরও রাঘব সোশ্যাল মিডিয়ায় নীরব ছিলেন।
অনুপস্থিতি: দলের গুরুত্বপূর্ণ সভা বা যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা যায়নি।
বিদেশে অবস্থান: এর আগে ২০২৪-এর নির্বাচনের সময় চোখের অপারেশনের জন্য তাঁর দীর্ঘ সময় লন্ডনে থাকা নিয়েও দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল।

নতুন নেতৃত্বের উত্থান:
রাঘবের জায়গায় আসা অশোক মিত্তল অবশ্য বিষয়টিকে ‘রুটিন রদবদল’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, দলে সবাইকে সুযোগ দেওয়া হয়। তবে রাজ্যসভা সচিবালয়কে দেওয়া চিঠিতে আপ জানিয়েছে, রাঘবকে যাতে আর সংসদে কথা বলার জন্য দলের তরফে সময় দেওয়া না হয়। এই নির্দেশটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভবিষ্যৎ কী?
২০১২ সাল থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা রাঘব কি তবে আম আদমি পার্টি ছাড়তে চলেছেন? অসম নির্বাচনের তারকা প্রচারকের তালিকায় তাঁর নাম না থাকা এবং পঞ্জাবের রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে একসময়ের ‘কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ’ রাঘবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।
