Seven point charter election
Bengal Liberty, কলকাতা:
বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিন্দুমাত্র আপোস করতে নারাজ নির্বাচন কমিশন Seven point charter election। বাংলায় ‘মুক্ত, অবাধ, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ’ নির্বাচন উপহার দিতে রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশ মহানির্দেশক (DGP), কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ সমস্ত জেলাশাসক ও এসপিদের কড়া বার্তা পাঠালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ইসি ডঃ সুখবীর সিং সান্ধু ও ডঃ বিবেক জোশী। Seven point charter election ভোটমুখী রাজ্যে কোনোরকম হিংসাত্মক পরিস্থিতি, দ্বন্দ্ব আটকাতে মোক্ষম চাল দিলেন নির্বাচন কমিশন।
কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ, নির্বাচনে প্রশাসনকে সাতটি বিশেষ লক্ষ্য বা ‘সেভেন-পয়েন্ট চার্টার’ মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশিকার অন্যথা হলে কড়া প্রশাসনিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে আধিকারিকদের।

প্রশাসনের ওপর নজরদারি
কমিশন সাফ জানিয়েছেন , কোনো প্রকার অব্যবস্থা , ভোটকেন্দ্রিক চাঞ্চল্য, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তার দায় আসবে জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP) এবং কমিশনারদের ওপর। প্রশাসনের মুখ্য আধিকারিকদের ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার দায়বদ্ধতা নিতে হবে। বিশেষ করে ভবানীপুরের মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্রগুলোতে যেখানে পুলিশি গাফিলতি দেখা গিয়েছে, সেখানে ইতিপূর্বেই ৪ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করে কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কোনো ধরণের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতে যেন এই ধরণের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন না হতে হয় তার দায়িত্ব আরোপিত হয়েছে প্রশাসনের ওপর।

কমিশনের ‘৭ দফা’ নির্দেশিকা জারি: Seven point charter election
১. নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ : ভোট চলাকালীন রীতিমত সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরী হয় কমবেশি সকল ভোট কেন্দ্রগুলিতে। তাই ভোটাররা যাতে কোনো ভয় বা চাপের মুখে না পড়ে, নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। বুথে যাওয়ার পথে কোনো বাধা যেন সংশয় হয়ে না দাঁড়ায়।
২. হিংসামুক্ত ভোট : নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন বা ফল ঘোষণার পরে – রাজ্যের কোথাও কোনো রকম হিংসাত্মক পরিস্থিতি বরদাস্ত করবে না কমিশন।
৩. হুমকিমুক্ত প্রচার : কোনো প্রার্থী বা ভোটারকে হুমকি দেওয়া যাবে না। জোর করে , ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় চলবে না। ভোট দেওয়া দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার, সেই অধিকারকে হুমকি দিয়ে বিভ্রান্ত করা যাবে না। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস জাগাতে হবে।
৪. প্রলোভনহীন নির্বাচন : মডেল অফ কন্ডাক্ট অনুযায়ী সাধারণ মানুষের প্রতি বিভিন্ন নির্দেশাবলী জারি হয়েছে তবুও কিছু রাজনৈতিক নেতারা টাকা, মদ বা কোনো উপহার দিয়ে স্বার্থ চরিথার্থে ব্যস্ত থাকে। এইসব প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা রুখতে হবে। ইতিমধ্যে ২৭৪ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পর নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. ছাপ্পামুক্ত ভোট : পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের দীর্ঘদিনের কলঙ্ক ‘ছাপ্পা ভোট’ রুখতে বুথের ভেতরে কড়া নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. বুথ দখল আটকানো : কোনো বুথ যাতে রাজনৈতিক কর্মীরা দখল করে সাধারণ ভোটারদের প্রবেশ রুখতে না পারে, তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার : ভোটারদের অনেক সময় বুথে পৌঁছাতে বাধা দিতে স্থানীয় ‘সোর্স’ বা প্রভাবশালীদের ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ছলে বলে কৌশলে সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার করে, সাধারণ জনগণ ভোটকেন্দ্র অবধি পৌঁছাতে ভয় পায়। সেই ধরণের পরোক্ষ বাধা বা ‘সোর্স জামিং’ সমূলে উপড়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
আগামী দিনগুলোতে বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যাতে নির্ভয়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
