helicopter drone incident
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারকে ঘিরে বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মালদহে helicopter drone incident। তাঁর হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন উড়ানোর অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের দাবি, তারা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সভার ভিডিও ধারণ করতেই ড্রোন উড়িয়েছিল।

কী ঘটেছিল? helicopter drone incident
সূত্রের খবর, মালদহের মালতিপুর এলাকায় নির্বাচনী সভা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শেষ করে তিনি যখন হেলিকপ্টারে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় হেলিপ্যাডের কাছাকাছি আকাশে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ড্রোনটি হেলিকপ্টারের খুব কাছাকাছি চলে আসায় নিরাপত্তা রক্ষীদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়।
মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং কিছুক্ষণের জন্য হেলিকপ্টারে ওঠা স্থগিত রাখা হয়। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ড্রোনটির উৎস খোঁজার কাজ শুরু করেন। কারণ, এত কাছাকাছি ড্রোন উড়লে হেলিকপ্টারের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।
তিনজন গ্রেফতার
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন যুবককে আটক করে। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ধৃতদের বাড়ি বিহারের কাটিহার জেলায়। তাদের কাছ থেকে একটি ড্রোন, কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।
ধৃতদের দাবি
পুলিশি জেরায় ধৃতরা দাবি করেছে, তারা কোনও খারাপ উদ্দেশ্যে ড্রোন ওড়ায়নি। তাদের বক্তব্য, তারা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং নির্বাচনী সভার আকাশপথের ভিডিও ধারণ করতেই ড্রোন ব্যবহার করছিল। সেই ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল বলেও তারা জানিয়েছে।
তদন্তে পুলিশ
তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। নির্বাচনী সভায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া ছিল। ফলে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানোকে গুরুতর নিরাপত্তা ভঙ্গ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে প্রশাসন। ধৃতদের মোবাইল ও ড্রোনের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। সত্যিই তারা কোনও রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা শুরু করেছে। বিজেপির দাবি, এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল রাজনৈতিক নাটক করছে। ধৃতদের বয়ান থেকেই স্পষ্ট যে, সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তৃণমূল নিজেদের দুষ্কৃতী দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের লোকজনই জড়িত। মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যা সবার সামনে ধরা পড়ে গেছে। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে—পুরো ঘটনা তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। প্রশাসনের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের কাছে অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ে আসা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ফাঁক ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

