Kunal Ghosh
Bengal Liberty, ২৫ মে :
ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদতে “পায়রার খোপ” দেওয়ার অভিযোগে রবিবার গভীর রাতে জনরোষের মুখে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। গতকাল, গভীর রাতে উত্তর কলকাতার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠে ” “চোর-চোর” স্লোগান। অভিযোগ, এলাকার পুরনো একটি বসতি ভেঙে নতুন পাকা বাড়ি তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী। পাকা বাড়ির স্বপ্ন দেখিয়ে পুরনো বসতি ভাঙানো হলেও এখনও পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি বিশ বাঁও জলে। পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে ছোট টিনের ঘর, যা নিয়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে বাসিন্দাদের। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপির তীব্র রাজনৈতিক তরজা (Kunal Ghosh)।

ঘর নিয়ে ক্ষোভ (Kunal Ghosh)
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার একটি পুরনো বসতি ভেঙে নতুন আবাসন তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী। বাসিন্দাদের দাবি ছিল, পুরনো জমি ছেড়ে দিলে একই জায়গায় পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ, সম্প্রতি যাঁদের ঘর দেওয়া হয়েছে, সেগুলি আকারে অত্যন্ত ছোট এবং টিনের চালযুক্ত। বিক্ষোভকারীদের একাংশের বক্তব্য, “এই ঘরগুলো পরিবার নিয়ে থাকার মতো নয়, একেবারে পায়রার খোপের মতো।” রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। বহু মানুষ তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তৃণমূল-বিজেপির পাল্টা অভিযোগ (Kunal Ghosh)
ঘটনার পর তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় পুরনো ব্যারাক সংস্কারের কাজ করছে কেএমডিএ। ইতিমধ্যেই কিছু পরিবার নতুন ঘর পেয়েছে এবং বাকিদের জন্য কাজ চলছে। যাঁরা এখনও ঘর পাননি, তাঁরাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের দাবি, আগামী জুন মাসের মধ্যেই বাকি পরিবারগুলিও ঘর পেয়ে যাবে। অন্যদিকে এক বিজেপি নেতা বলেন,”তৃণমূল আমলের ভুল সিদ্ধান্তের দায় এখন বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে।”
তবে সংবাদমাধ্যমে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন “জয় শ্রীরাম” স্লোগানও দেন। তাঁর কথায়, “ঘরের বদলে ঘর প্রকল্প যখন শুরু হয়েছিল, তখন কেএমডিএ তৃণমূল সরকারের অধীনে ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তবুও বিধায়ক হিসেবে আমি সহযোগিতা করব।” তিনি আরও জানান, পার্টি অফিসে গোলমালের খবর পেয়ে রাতেই গড়পাড়ের বাড়ি থেকে সেখানে পৌঁছন এবং পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।

