Bengal Liberty
রথযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভক্তদের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে হুগলির মাহেশ এবং বীরভূমের তারাপীঠ (Rath Yatra 2026)। বাংলার অন্যতম প্রাচীন রথযাত্রার ঐতিহ্য যেমন মাহেশে আজও অটুট, তেমনই তারাপীঠে মা তারার রথযাত্রাকে ঘিরেও দেখা গেল ভক্তদের উচ্ছ্বাস।
ঐতিহ্যপূর্ণ মাহেশের রথ Rath Yatra 2026
শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা প্রায় ৬৩০ বছরের পুরনো। বাংলার অন্যতম প্রাচীন এই ধর্মীয় উৎসবে প্রতিবছরই লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে বসিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই রথযাত্রা।

মাহেশের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ জগন্নাথদেবের ৫৬ ভোগ। সুগন্ধি পোলাও, খিচুড়ি, ধোঁকার ডালনা, ছানার তরকারি, আলুর দম, ক্ষীরের পায়েস, মালপোয়া-সহ নানা পদ নিবেদন করা হয়। ভোগে সাধারণ লবণের পরিবর্তে সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেব বাংলার মিহিদানা পছন্দ করতেন। তাই আজও মিহিদানা ও ঘুটকে সন্দেশের মতো মিষ্টি ভোগে রাখা হয়।
রথে পরিক্রমা করে মা তারা
রথযাত্রার দিন উৎসবের আবহে সেজে উঠেছে তারাপীঠও। সকাল থেকেই মা তারার দর্শনের জন্য ভক্তদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মন্দিরে বিশেষ পুজো, ভোগ নিবেদন এবং নানা ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এ বছর নতুন কাঠের রথে মা তারার নগর পরিক্রমার আয়োজন করা হয়েছে।

তারাপীঠের রথযাত্রার বিশেষত্ব হল, এখানে জগন্নাথদেবের পরিবর্তে মা তারাকেই রথে বসিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পুরনো রথ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এ বছর নতুন রথ তৈরি করা হয়েছে। ভক্তদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নজরদারি ও সহায়তা শিবিরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া ভক্তদের জন্য প্রায় ১০ হাজার লাড্ডু প্রসাদ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে রথ থেকে নয়, নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকেই প্রসাদ দেওয়া হবে।
ঐতিহ্য, ভক্তি এবং উৎসবের আবহে এদিন বাংলার দুই ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র মাহেশ ও তারাপীঠে রথযাত্রা ঘিরে ছিল উৎসবের আমেজ।

