Bengal Liberty
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) থেকে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের পদত্যাগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগে কেন্দ্র। গত কয়েক মাসে ১০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী সংস্থা ছেড়েছেন বলে জানা গিয়েছে (ISRO)। এর ফলে গগনযান সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পের কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে মহাকাশ বিভাগ (DoS)।

১০০-র বেশি বিজ্ঞানীর পদত্যাগে উদ্বেগ ISRO
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে জানানো হয়েছে, গগনযান ও অন্যান্য কৌশলগত জাতীয় প্রকল্পে কর্মরত গ্রুপ ‘এ’ পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিবিদদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছাবসরের আবেদন আর স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে নিষ্পত্তি করা যাবে না। আগে ইসরোর বিভিন্ন কেন্দ্রের ডিরেক্টরদের এই অনুমোদনের ক্ষমতা থাকলেও সংশোধিত নিয়মে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কৌশলগত প্রকল্পে যুক্ত কর্মকর্তাদের পদত্যাগের প্রতিটি আবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে মহাকাশ বিভাগের উচ্চস্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখা। বিশেষ করে গগনযানের মতো উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের বিকল্প দ্রুত খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।

গগনযান মিশন ঘিরে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের
মহাকাশ বিভাগের পর্যবেক্ষণ, সাম্প্রতিক সময়ে পদত্যাগের প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীদের চাকরি ছাড়ার নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনও ইসরো বা মহাকাশ বিভাগের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সূত্রের খবর, দেশের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত প্রসারই এর অন্যতম কারণ। মহাকাশ খাত বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি সংস্থা ইসরোর অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের আকর্ষণীয় সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি উপগ্রহ ও রকেট প্রযুক্তিতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ায় দক্ষ জনবলের চাহিদাও বেড়েছে। ইসরোর কয়েকজন প্রাক্তন কর্মকর্তার মতে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক কড়াকড়ি করে এই প্রবণতা রোখা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে বিজ্ঞানীদের ধরে রাখতে হলে পদোন্নতির সুযোগ, গবেষণার স্বাধীনতা, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং নেতৃত্বের কাঠামোয় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান গগনযান-কে ঘিরে যখন প্রত্যাশা তুঙ্গে, তখন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের সংস্থায় ধরে রাখাই কেন্দ্রের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

