cash recovery
Bengal Liberty, ২৮ এপ্রিল:
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এক প্রেস নোটে জানানো হয়েছে, চলতি বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে (cash recovery)। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ৫১০.১০ কোটি টাকার নগদ, মদ, মাদক ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

নির্বাচন ঘিরে কঠোর নজরদারি cash recovery
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ অসম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে মডেল কোড অব কন্ডাক্ট কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচন যাতে সহিংসতামুক্ত, ভয়ভীতিমুক্ত এবং প্রলোভনমুক্তভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য একাধিক পর্যালোচনা বৈঠকও করা হয়েছে। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক, পুলিশ প্রধান এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিপুল নজরদারি দল মোতায়েন
নির্বাচনের সময় অবৈধ লেনদেন ও প্রলোভন রুখতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক নজরদারি চালানো হচ্ছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে ২,৭২৮টি ফ্লাইং স্কোয়াড টিম এবং ৩,১৪২টি স্ট্যাটিক সারভেইলেন্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এই দলগুলি বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ নাকা চেকিং চালাচ্ছে এবং নির্বাচনী বিধিভঙ্গ সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেলে ১০০ মিনিটের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মদ তৈরী, মজুত এবং পাচারের বিরুদ্ধেও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
কি কি বাজেয়াপ্ত হয়েছে
কমিশনের ইলেকশন সিজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ৩০ কোটি টাকা নগদ, প্রায় ৪৮ লক্ষ ৪৬ হাজার লিটার মদ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১২৬.৮৫ কোটি টাকা, ১১০.১২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য, ৫৮.২৮ কোটি টাকার মূল্যবান ধাতু এবং ১৮৪.৮৫ কোটি টাকার ফ্রি উপহার ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫১০.১০ কোটি টাকা।
আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই অঙ্কটি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। কমিশনের মতে, কঠোর নজরদারি এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার সমন্বিত অভিযানের ফলেই এত বড় অঙ্কের অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
চলতি নির্বাচনে প্রলোভন ও অবৈধ লেনদেন রুখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
