DCP Shantanu Sinha Biswas
Bengal Liberty, ১৫ মে :
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ, একের পর এক প্রশ্ন আর তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ (DCP Shantanu Sinha Biswas)। শেষ পর্যন্ত রাত গড়াতেই কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোনা পাপ্পু কাণ্ডে বহুদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন তিনি। একাধিকবার তলবের পরও হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার প্রায় ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর শেষমেশ গ্রেফতার করা হয় কলকাতা পুলিশের এই উচ্চপদস্থ আধিকারিককে। আজ, শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে (DCP Shantanu Sinha Biswas)।

১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর গ্রেফতার (DCP Shantanu Sinha Biswas)
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে শুরু হয় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলায় তাঁর ভূমিকা ও যোগাযোগ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা চললেও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলেই অভিযোগ। ইডি সূত্রে খবর, তদন্তে সহযোগিতা না করার কারণেই রাত সাড়ে ৯টার পর তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ, শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। এদিন শান্তনুর ইডি দফতরে পৌঁছনোর খবর প্রকাশ্যে আসতেই সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। সংবাদমাধ্যমের নজর এড়িয়ে তিনি ভিতরে প্রবেশ করেন বলেও দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

একের পর এক মামলায় ইডির নজরে ছিল শান্তনু (DCP Shantanu Sinha Biswas)
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, গ্যাংস্টার সোনা পাপ্পুকে কেন্দ্র করে ওঠা তোলাবাজি ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ, বালি পাচার মামলা থেকে শুরু করে এনআরআই কোটায় ভর্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ, একাধিক মামলায় কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জমি জালিয়াতি মামলায় শান্তনুকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি।
অভিযোগ, পাঁচবার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি মামলায় শান্তনুকে আগেই ইডি একাধিকবার তলব করেছিল। কিন্তু, তিনি হাজির এড়িয়ে গিয়েছিলেন বারবার। এরপরই তদন্তকারী সংস্থা আশঙ্কা করে, তিনি দেশ ছাড়তে পারেন। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা হয় লুকআউট নোটিস। একইসঙ্গে বিভিন্ন মামলায় আলাদা আলাদা করে নোটিস পাঠিয়ে DCP শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে ইডি সূত্রে জানা গেছে।

সোনা পাপ্পু থেকে বালি পাচার মামলার তদন্ত (DCP Shantanu Sinha Biswas)
এই মামলায় বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে আগেই গ্রেফতার করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের। তদন্তের সূত্র ধরেই গত মাসে তাঁর ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এরপর শান্তনু ও তাঁর দুই পুত্রকেও তলব করা হয়, যদিও তাঁরা হাজিরা পিছিয়ে দেন। এর আগে এপ্রিল মাসেও বালি পাচার মামলায় তাঁকে ডেকেছিল ইডি। সেই সময়ও তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাজির হননি। ফলে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও গভীর হয় বলে সূত্রের খবর। কলকাতা পুলিশের এক ডিসির গ্রেফতারি ঘিরে এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
