Priyadarshini Mallick
Bengal Liberty, ১৪ মে :
রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন শুরু হয়েছে (Priyadarshini Mallick)। তারই মধ্যে এবার পরিবর্তনের ঢেউ এসে পড়ল শিক্ষাক্ষেত্রেও। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে। শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিনি ফের আশুতোষ কলেজের অধ্যাপনার দায়িত্বে ফিরবেন। এর আগে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও এসএসসির চেয়ারম্যানরাও ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলের পর তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। পরে বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাতেই তৃণমূলের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে সরিয়ে দিল শিক্ষা দফতর (Priyadarshini Mallick)।

ফলপ্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ (Priyadarshini Mallick)
বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টারের ফল প্রকাশের দিন সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। ফলপ্রকাশের সমস্ত প্রক্রিয়াতেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু রাত গড়াতেই শিক্ষা দফতরের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, তাঁকে সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি ফের আশুতোষ কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে ফিরে যাবেন।
প্রসঙ্গত, প্রিয়দর্শিনী মল্লিক রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা। অতীতে রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলে তাঁর মেয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল রাজনৈতিক মহলে।

সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে প্রিয়দর্শনী (Priyadarshini Mallick)
প্রিয়দর্শিনী মল্লিক শিক্ষাজগতের পরিচিত মুখ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। তুলসী পাতা থেকে ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা ও মানবদেহের বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে তার কার্যকারিতা নিয়েই ছিল তাঁর গবেষণার বিষয়। মাইক্রোবায়োলজি, ভাইরোলজি ও মেডিক্যাল মাইক্রোবায়োলজিতে বিশেষজ্ঞ প্রিয়দর্শিনী দীর্ঘদিন আশুতোষ কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি আশুতোষ কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধানও ছিলেন। পাশাপাশি ধ্রুবচাঁদ হালদার কলেজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদে দায়িত্ব পান।
সচিব থাকাকালীন সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। তাঁর সময়েই উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য সংসদ ভবনে ছোট লাইব্রেরি তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষার সময় বিভিন্ন স্কুলে পর্যবেক্ষণেও সভাপতির সঙ্গে তাঁকে নিয়মিত দেখা গিয়েছে। ফলে ফলপ্রকাশের দিন দায়িত্ব সামলানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর অপসারণ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে শিক্ষা মহলে।
