Rathin Ghosh
Bengal Liberty, ১৫ মে :
দীর্ঘদিন ধরে ইডির তলব এড়িয়ে যাওয়ার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজির দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh)। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার তলব করা হলেও আগে পাঁচবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টা নাগাদ আচমকাই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন রথীন ঘোষ। দফতরে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমাকে কেন ডেকেছে জানি না। ভিতরে গেলে জানতে পারব।” সূত্রের খবর, এদিন তাঁর আসার বিষয়ে আগে থেকে ইডি আধিকারিকদেরও কোনও আগাম বার্তা দেওয়া হয়নি। ফলে আচমকা তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে (Rathin Ghosh)।

পাঁচবার তলব এড়িয়ে অবশেষে ইডির মুখোমুখি (Rathin Ghosh)
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে রথীন ঘোষকে এর আগে মোট পাঁচবার নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। প্রথমদিকে লোকসভা নির্বাচনের ব্যস্ততার কথা জানানো হয়েছিল তাঁর তরফে। পরে আবার দাবি করা হয়, বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে ‘বেড রেস্টে’ রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ টালবাহানার পর শুক্রবার আচমকাই সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁর হাজিরা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল। সূত্রের খবর, পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর ভূমিকা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইডি আধিকারিকরা তাঁকে জেরা শুরু করবেন বলে জানা গিয়েছে।

সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর বাড়ে চাপ (Rathin Ghosh)
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগে তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমার দিন থেকেই শুরু হয় ইডির তলব পর্ব। বিধানসভা ভোট চলাকালীন একাধিকবার হাজিরার নোটিস পেলেও নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। তৃণমূল সূত্রের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই ভোট চলাকালীন ইডির হাজিরা এড়িয়ে ছিলেন বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী। তবে নির্বাচন পর্ব শেষ হতেই তদন্তে সহযোগিতা করতে গত ১ মে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন সুজিত বসু। এরপর ১২ মে ফের তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। সেদিন দীর্ঘ ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর থেকেই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজনৈতিক চাপ ও জল্পনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
