cm north bengal visit
বেঙ্গল লিবার্টি, শিলিগুড়ি:
দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূলের অপশাসনের অবসান হয়েছে। আজ, বুধবার সরকার গঠনের পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গের মাটিতে পা দিয়েই তিনি জানালেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানো এবং সার্বিক খোল বদলে ফেলা। (CM north bengal visit)

স্বাগত জানাতে জনতার ঢল (CM north bengal visit)
বুধবার সকালে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে বাইরে বেরিয়েই উত্তরবঙ্গের মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী হাতজোড় করে সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান। লোকসভা থেকে শুরু করে বিধানসভা নির্বাচন — বছরের পর বছর ধরে বিজেপিকে বিপুল ভোটে জেতানোর জন্য উত্তরবঙ্গবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং নবনিযুক্ত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ” ২০০৯ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষ দু’হাত উজাড় করে বিজেপির পাশে থেকেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করেছেন। তাই উত্তরবঙ্গ বিজেপির ‘ভদ্রাসন’। এবার আমাদের ঋণ শোধ করার পালা। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করবো।”

একগুচ্ছ বড় ঘোষণা
দক্ষিণবঙ্গে উন্নতি হলেও উত্তরবঙ্গ উন্নতির দিকে বরাবরই বিরত ছিল। “এবার থেকে প্রতি মাসেই নিজে উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন। আগামী জুলাই মাসে তাঁর পরবর্তী সফর নির্ধারিত হয়েছে” – জানালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যায় স্থায়ীভাবে বসবেন।
‘জনতা দর্শন’ কর্মসূচি
প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। বিধায়করা জনগণের সুবিধা অসুবিধার কথা শুনবে। সপ্তাহে অন্তত একবার ‘জনতা দর্শন’ কর্মসূচির আয়োজন করবেন, যেখানে সরাসরি মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পরিবর্তন
উত্তরবঙ্গবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার বিজেপি সরকার। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পুনরায় ব্যক্ত করেন তিনি। নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্র’ অনুযায়ী তিনি ঘোষণা করেন:
১. এইমস (AIIMS): উত্তরবঙ্গে একটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস স্থাপন করা হবে।
২. আইআইটি (IIT): স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে এই অঞ্চলেই গড়ে উঠবে একটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি
৩. ক্যানসার হাসপাতাল: উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকার চিকিৎসার মান বাড়াতে একটি অত্যাধুনিক ক্যানসার হাসপাতাল (Dedicated Cancer Centre) তৈরি করা হবে।
উত্তরকন্যায় উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক:
বিমানবন্দর থেকে সোজা শিলিগুড়ির রাজ্য সরকারের মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যায়’ পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক, আইজিপি, পুলিশ সুপার এবং প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে:
প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা ও পরিকাঠামো:
সামনে বর্ষাকাল। তাই উত্তরবঙ্গের চিরাচরিত সমস্যা — বন্যা, পাহাড়ি ধস, হড়পা বান এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মাফিয়া ও বেআইনি কার্যকলাপে ‘জিরো টলারেন্স’:
উত্তরবঙ্গের বেআইনি নির্মাণ, সরকারি জমি দখল করা, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি ও পাথর পাচারকারী মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়ে প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
চা শ্রমিকদের জন্য উন্নয়ন:
চা বলয়ের শ্রমিকরা দীর্ঘদিনের মজুরি বাকি ও চিকিৎসা পরিষেবার সমস্যায় জর্জরিত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কোন প্রকার সাহায্য করেনি, শুধু প্রতিশ্রুতি ছাড়া। বিষয়টিতে নজরদারি শুরু করেছেন দিলীপ ঘোষ।
এবার জিটিএ দুর্নীতির সমস্ত পুরোনো ফাইল খোলা হবে এবং পাহাড় জুড়ে ‘সাফাই অভিযান’ চলবে। সরকার ঘোষণার পর মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক উত্তরকন্যায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল দেখে অবাক হয়েছিলেন। বহু ক্ষেত্রে কাজ কেবল ‘কাগজ-কলম’ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছিল, আদৌ সার্বিক উন্নয়ন ঘটেনি। একাধিক ঠিকাদার সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্টেড করার নির্দেশ দেন।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রশাসনিক বৈঠকে। প্রথমবার বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদেরও এই সরকারি বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
শিলিগুড়িতে একটি উড়ালপুল উদ্বোধনের কর্মসূচি সেরে বিকেলেই কলকাতায় ফিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর, উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
